যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: সাত বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগের একটি ভাড়া বাসায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর রোববার এলো এই রায়।
আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে মিজানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শোনানোর পর সাজা পরোয়ানাসহ তাঁকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদুল আলম জর্জ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যৌতুকের দাবিতে ২০১৯ সালে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মিজানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামির বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি করা এবং যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় নিজেই স্বীকার করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।
তবে এই মৃত্যুদণ্ড এখনই কার্যকর হচ্ছে না। রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে আসামি চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল সাতটার আগে ওই ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মিজান।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে মিজান স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠানো হলেও নির্যাতন থামেনি, তা অব্যাহত ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রেহানার ভাই আব্বাস বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রোববার রায় ঘোষণা করা হলো। এখন হাইকোর্টের অনুমোদন ও সম্ভাব্য আপিল প্রক্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।





