মুকসুদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপের চাপায় প্রাণ গেল বাবা ও ছয় বছরের মেয়ের
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাছবাহী পিকআপের চাপায় অটোভ্যানে থাকা বাবা ও তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা ব্রিজের ওপর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবন বেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে। নিহত শিশুর নাম সামিরা আক্তার (৬)। বাবা-মেয়ের একসঙ্গে মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে গোপালগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল মাছবাহী একটি পিকআপ। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মুকসুদপুরগামী একটি অটোভ্যানকে পিকআপটি চাপা দিয়ে চলে যায়।
ব্রিজের ওপর সংঘর্ষের এই ঘটনায় অটোভ্যানে থাকা বাবা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। অটোভ্যানের মতো হালকা যান মহাসড়কে ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে কতটা ঝুঁকিতে থাকে, এই দুর্ঘটনা আবারও তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত বাবা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন। তাঁদের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। সব চেষ্টা সত্ত্বেও বাবা সাইফুল ইসলাম রঞ্জু ও শিশু সামিরা আক্তারকে বাঁচানো যায়নি।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবা-মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পিকআপটি চাপা দিয়ে চলে যাওয়ার পর সেটির অবস্থান বা চালক সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমেই এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ব্যস্ত সড়কপথ। এমন মহাসড়কে অটোভ্যানের মতো ধীরগতির যান ও দ্রুতগতির পণ্যবাহী যান একই সঙ্গে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি সব সময়ই থেকে যায়।
ব্রিজের ওপর দুর্ঘটনা ঘটায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ ব্রিজে পাশ কাটানোর জায়গা সীমিত থাকে। এই দুর্ঘটনাটিও ঘটেছে গ্যাড়াখোলা ব্রিজের ওপর, যেখানে অটোভ্যানটির পক্ষে পিকআপকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল সীমিত।
স্থানীয়দের উদ্ধার তৎপরতা ও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সত্ত্বেও দুজনকে বাঁচানো যায়নি—এটি আঘাতের গুরুত্বই নির্দেশ করে। পরিবারটির জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর স্বজনদের কাছে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার দায় ও পিকআপচালকের ভূমিকা নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে জানা গেছে।




