…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
জাতীয়

চট্টগ্রামে প্রবারণা পূর্ণিমায় বিহারে বিহারে ভক্তদের ঢল, সন্ধ্যায় আকাশ রাঙাবে ফানুস

নিজস্ব প্রতিবেদক

কারও হাতে পদ্মফুল, কারও হাতে ফলমূল আর পূজার নানা উপকরণ। কেউ পরম শ্রদ্ধায় বুদ্ধমূর্তির সামনে ফুল নিবেদন করছেন, আবার কেউ নিভৃত প্রার্থনায় জ্বালিয়ে দিচ্ছেন প্রদীপের শিখা। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বৌদ্ধবিহারগুলোতে ছিল নানা বয়সি পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে এই আয়োজন। দিনভর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় রঙিন ফানুস ওড়ানোর অপেক্ষায় আছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। ফানুসের আলোয় রাতের আকাশ আলোকিত করার পাশাপাশি বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন আয়োজকেরা।

নগরের শতবর্ষী নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারসহ বিভিন্ন বিহারে ভোর থেকেই উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। চট্টগ্রাম নগর ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সি মানুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন।

সকালে নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই নতুন পোশাকে বিহার প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। তাদের হাতে ছিল প্রদীপের থালা, গাদা ও পদ্মফুল এবং হরেক রকমের ফলমূল। বুদ্ধমূর্তি ও বোধিবৃক্ষের চরণতলে ফুল নিবেদন ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পরে ভিক্ষুদের কাছ থেকে পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন ভক্তরা।

দিনব্যাপী বিহারের বিভিন্ন কক্ষে চলেছে বিশেষ ধর্মোপদেশ বা দেশনা এবং বিশ্বশান্তি কামনায় যৌথ প্রার্থনা। পাশাপাশি ছিল সংঘদান, বুদ্ধপূজা ও পিণ্ডদানের মতো ধর্মীয় আয়োজনও।

বিহারে আসা পুণ্যার্থী তৃপ্তি বড়ুয়া বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা তাঁদের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, আত্মশুদ্ধি ও নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ারও দিন। প্রতিবছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিহারে আসেন তিনি। তাঁর প্রার্থনা, পৃথিবী থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক, সবার জীবন শান্তিময় হোক।

আরেক ভক্ত দেবাশীষ বড়ুয়া ফানুস উৎসবের স্মৃতি টেনে বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রবারণা পূর্ণিমার ফানুস ওড়ানো দেখে আসছেন তিনি। পুরো একটি বছর তাঁরা এই বিশেষ দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। সন্ধ্যায় যখন একসঙ্গে অনেক ফানুস আকাশে ওড়ে, তখন অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এটি তাঁদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ।

দিনভর আচার-অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যা নামার সঙ্গেই শুরু হবে প্রবারণা পূর্ণিমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব — ফানুস উৎসব। নন্দনকানন বৌদ্ধবিহার ও এর আশপাশের এলাকায় এখন ফানুস ওড়ানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

প্রথাগত ফানুসের বাইরেও হাতি, ময়ূর, মাছ, বালিশ কিংবা মটকা আকৃতির নানা কারুকার্যময় ফানুস তৈরি করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও তরুণ সংগঠনের সদস্যরা। এসব ফানুসের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বুদ্ধের অহিংস বাণী, ছবি এবং মানবকল্যাণের চিরন্তন বার্তা।

আয়োজকেরা জানান, একটি দিনের এই আয়োজনের প্রস্তুতি চলে কয়েক মাস ধরে। ফানুস তৈরি, বাঁশের কাঠামো বানানো, কাগজ লাগানো, রং করা ও মোম প্রস্তুত — প্রতিটি কাজেই যুক্ত থাকেন সংগঠনের সদস্যরা। এবার ৩০টির বেশি ফানুস তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন আকৃতির আরও ফানুস ওড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০টি সংগঠনের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকদের কেউ কেউ। আয়োজকদের একজন বলেন, তাঁরা শুধু ফানুস ওড়ান না, এর মাধ্যমে সবার কল্যাণ কামনা করেন; প্রতিটি ফানুসের মধ্য দিয়ে বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকে এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মিলে এ উৎসব উদ্‌যাপন করেন।

মূলত তিন মাসের বর্ষাবাস পালন শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আত্মশুদ্ধি, সংযম ও পারস্পরিক ক্ষমা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করেন। অতীতের সব ভুল স্বীকার করে অন্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করাই এর মূল দর্শন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রবারণার সন্ধ্যায় ওড়ানো ফানুস গগনে থাকা বুদ্ধের কেশধাতু চৈত্য বা স্মারক চিহ্নের উদ্দেশ্যে ভক্তদের শ্রদ্ধা হিসেবে পৌঁছে যায়। পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের মাধ্যমে ভক্তরা জীবহত্যা, চুরি, মিথ্যাচারসহ অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার শপথ নেন। হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘাতমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তির প্রত্যাশাও এ উৎসবের অন্যতম বার্তা।

নন্দনকানন ছাড়াও নগরের ঐতিহাসিক কাতালগঞ্জ নবপণ্ডিত বিহার, পাথরঘাটা জেতবন শান্তিকুঞ্জ বিহার, চান্দগাঁও সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার ও মোগলটুলী শাক্যমুণি বৌদ্ধবিহারে যথারীতি পালিত হচ্ছে প্রবারণার উৎসব। উৎসব উপলক্ষে চেরাগী পাহাড় ও মোমিন রোড এলাকায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম সামলাতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাদাপোশাকের পুলিশসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ফানুস উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়; এ কারণে নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হয়নি, সাদাপোশাকের পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা তিনি দেখছেন না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

থামল মহান শিল্পীর তুলি: ৮৭ বছর বয়সে চলে গেলেন যোগেন চৌধুরী

ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার এক বিশিষ্ট অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চলে গেলেন দুই বাংলার খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। রোববার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কলকাতার…

জাতীয়

মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা; দুপুরে জেলা প্রশাসনের বৈঠক

পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বের জেরে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলা শহরের গাইটাল …

জাতীয়

সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জটিলতা, কবর খুঁড়লেন পরিবারের নারীরা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফন নিয…

জাতীয়

রংপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনি, অটোরিকশা চুরির অভিযোগে নিহত ২

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।…