অস্ট্রেলিয়ায় ধরা পড়ল নাহিদ রানার ল্যাব্রাম ছেঁড়া চোট, ৩০ অক্টোবর থেকে বোলিং শুরুর সম্ভাবনা
বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার চোট নিয়ে নতুন তথ্য মিলেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। গত মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষ দিকে আবারও চোট পেয়েছিলেন নাহিদ। পরে দ্বিতীয় দফায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছেন এই পেসার। সেখানে পৌঁছে চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোকে দেখিয়েছেন তিনি, আর সেখানেই চলছে তার ১০ দিনের রিহ্যাব সেশন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা গেছে, ল্যাব্রামে চোট পেয়েছেন নাহিদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, (নাহিদের) ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার চোট শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ইতোমধ্যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে সে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে তার বোলিং শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে বোলিংয়ে ফিরলেই যে দ্রুত ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছাবেন নাহিদ, তা নিশ্চিত নয়। তার খেলা নির্ভর করবে পুনর্বাসনে অগ্রগতি ও সুস্থতার গতির ওপর — অর্থাৎ প্রতিটি ধাপে শরীর সাড়া দিলেই কেবল সামনে এগোনো যাবে, তাড়াহুড়োর কোনো সুযোগ এখানে নেই।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের আগে যদি সে সুস্থ হতে না পারে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারে।’ অর্থাৎ টেস্ট সিরিজই প্রথম লক্ষ্য হলেও, সেটি না হলে সাদা বলের সিরিজকে ফেরার মঞ্চ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
নাহিদের চোটের তালিকা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফরের সময় গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইনে পড়েছিলেন তিনি। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি এই পেসার।
এরপর পুনর্বাসন চলাকালে নিতম্বের পেশিতেও নতুন করে চোট পান নাহিদ। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেও ছিটকে যান তিনি। একের পর এক চোটে তার মাঠে থাকার ধারাবাহিকতা বারবার ভেঙেছে।
এবারের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের চোটের পর দ্বিতীয় দফায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়াটাই বোঝায়, দেশে পুনর্বাসনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না মেলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণ নেওয়া হয়েছে। পিটার দি আলেসান্দ্রোর তত্ত্বাবধানে ১০ দিনের রিহ্যাব সেশন সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
ল্যাব্রাম ছেঁড়া শনাক্ত হওয়ার পর আপাতত অস্ত্রোপচারের কথা জানানো হয়নি; ইনজেকশন ও পুনর্বাসন দিয়েই চিকিৎসা এগোচ্ছে বলে বিসিবি কর্মকর্তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে। ৩০ অক্টোবর থেকে বোলিং শুরু করতে পারলে সেটি হবে ফেরার পথে প্রথম বড় পরীক্ষা।
দলের সামনে অবশ্য অপেক্ষা করছে ব্যস্ত সূচি। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে নাহিদের থাকার কথা এই প্রতিবেদনের তথ্যে বলা হয়নি; তার ফেরার হিসাব আবর্তিত হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে ঘিরেই।
গতির জন্য পরিচিত এই পেসারকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও চোটপ্রবণতা এখন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের সাইড স্ট্রেইন, পুনর্বাসনে নিতম্বের পেশির চোট আর এবার ল্যাব্রাম ছেঁড়া — তিনটি আলাদা ধাক্কা এক মৌসুমের ব্যবধানেই এসেছে।
সব মিলিয়ে নাহিদের ভবিষ্যৎ এখন অস্ট্রেলিয়ার রিহ্যাব সেশনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। ৩০ অক্টোবর বোলিং শুরু, তারপর ধাপে ধাপে বোলিংয়ের ভার বাড়ানো, আর শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ফিটনেস — এই ধারাবাহিকতা ঠিকঠাক এগোলেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে তার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে।



