শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা
সিলেটের হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি দানবাক্সে মিলেছে স্বর্ণ এবং বৈদেশিক মুদ্রাও — ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘদিনের দান জমে তৈরি হয়েছে এই অর্থ ও সম্পদের ভান্ডার।
শাহজালালের মাজার সিলেট বিভাগ তো বটেই, গোটা দেশের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসেন এখানে জিয়ারত ও দর্শনের জন্য।
মাজারে আসা ভক্তদের অনেকেই তাদের সাধ্যমতো অর্থ দান করেন দানবাক্সে। কেউ নগদ টাকা, কেউ আবার মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। দিনের পর দিন সেই দান জমেই দানবাক্সে বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চিত হয়।
এবারের গণনায় নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ লাখ টাকা। এই অঙ্কটাই বলে দেয়, কত বিপুলসংখ্যক মানুষের ছোট-বড় দান মিলিয়ে এই তহবিল তৈরি হয়েছে।
নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। ভক্তদের দানে স্বর্ণের উপস্থিতি মাজারের প্রতি তাদের গভীর আবেগ ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে।
দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা মেলাও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে মাজার জিয়ারতের সময় বিদেশি মুদ্রায় দান করেছেন, অথবা বিদেশি দর্শনার্থীদের দান থেকেও এই মুদ্রা এসে থাকতে পারে — যেভাবেই আসুক, তা মাজারের আন্তর্জাতিক পরিচিতির দিকটাই তুলে ধরে।
তবে স্বর্ণের পরিমাণ কত এবং বৈদেশিক মুদ্রার অঙ্ক কত, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু নগদ ৮৮ লাখ টাকার হিসাবটাই জানা গেছে।
মাজারের দানবাক্সের অর্থ সাধারণত মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন এবং সেবামূলক নানা কাজে ব্যবহারের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে প্রতিবার গণনার পর এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হবে, তা নিয়েও আগ্রহ থাকে ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে।
সিলেট অঞ্চলের মানুষের কাছে শাহজালালের মাজার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি তাদের পরিচয় ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই দানবাক্সে এত বড় অঙ্কের দান জমার খবর স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা মেলার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল — যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভক্তদের দানের ধারা আজও কতটা জীবন্ত, আর এই মাজারকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা কতটা গভীর।


