ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্ঘটনা কেড়ে নিল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী মুনিরাকে: চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যু, শোকে ক্যাম্পাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মুনিরা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান — ক্যাম্পাসে ফেরার পথের যাত্রাই হয়ে গেল তাঁর শেষ যাত্রা।
মুনিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিনাজপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফেরার পথে শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ২ যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন মুনিরাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুনায়েদ জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মুনিরা। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঢাকার বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে বিজ্ঞপ্তি ও সহপাঠীদের বর্ণনায় জানা গেছে।
মুনিরার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মুনিরার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
উপাচার্য জানান, ঘটনাটি জানার পর থেকেই তিনি জুনায়েদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও অ্যালামনাইরা হাসপাতালে যান; সেখানে বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জহির বিন আলমও উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য আরও জানান, শুরু থেকেই মুনিরার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করেছে।
সিলেটের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়। সেই মহাসড়কের দুর্ঘটনাতেই এবার প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক নবীন শিক্ষার্থীর — ঘটনাটি তাই ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও অ্যালামনাইদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন আকস্মিক সমাপ্তি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
দুর্ঘটনায় আহত বাকি যাত্রীদের চিকিৎসা চলছে। আর বেড়তলার সেই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার পূর্ণ বিবরণ ও দায় নির্ধারণের দাবি উঠেছে — যেন মহাসড়কের এমন মৃত্যুর মিছিলে আর কোনো শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত না হয়।


