সুপার বোলজয়ী রেইডার্স কিংবদন্তি পিট বানাসজাক আর নেই, শোকে ‘সিলভার অ্যান্ড ব্ল্যাক’ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার আমেরিকান ফুটবল লিগ এনএফএলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত দল ওকল্যান্ড রেইডার্সের সাবেক রানিং ব্যাক পিট বানাসজাক আর নেই। ৮২ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন বলে শনিবার দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ মৌসুম রেইডার্সের জার্সি গায়ে খেলা এই খেলোয়াড় ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রথম সুপার বোল জয়ের অন্যতম নায়ক।
রেইডার্স এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রেইডার্স পরিবার পিট বানাসজাকের মৃত্যুতে শোকাহত। তাঁর দৃঢ়তা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও নিষ্ঠা রেইডার্স ফুটবলের এক কিংবদন্তি যুগকে ধারণ করেছিল এবং তিনি ছিলেন সিলভার অ্যান্ড ব্ল্যাকের প্রিয় সদস্য।’ দলটি তাঁর পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
বানাসজাকের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যে। নিজের পোলিশ ঐতিহ্য নিয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গর্বিত। সেই গর্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯০ সালে তাঁকে ন্যাশনাল পোলিশ-আমেরিকান স্পোর্টস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দলটি জানিয়েছে, বানাসজাকের স্ত্রী সু, মেয়ে রেবেকা ও অ্যামি এবং নাতি লুক, অস্টিন ও কনরের প্রতি রেইডার পরিবারের গভীরতম সমবেদনা রইল। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভক্ত ও সাবেক সতীর্থদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাঠের পরিসংখ্যানে বানাসজাক ছিলেন মূলত একজন রিজার্ভ খেলোয়াড়। ক্যারিয়ারে খেলা ১৭৩টি ম্যাচের মাত্র ৩৬টিতে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। তবু হাতে পাওয়া সুযোগগুলো তিনি এমনভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন যে ১৩ মৌসুমে রেইডার্সের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে গেছেন।
রেইডার্সের জার্সিতে তাঁর শেষ মাঠে নামা ১৯৭৮ সালে। তবে তাঁর সেরা মৌসুমটি ছিল ১৯৭৫ সাল; ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে দশম বছরে তিনি লিগ-সেরা ১৬টি রাশিং টাচডাউন করেন এবং ক্যারিয়ার-সেরা ৬৭২ গজ ছুটে যান। সেই ১৬টি রাশিং টাচডাউন আজও রেইডার্সের এক মৌসুমের রেকর্ড হয়ে আছে।
সুপার বোলের মঞ্চেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল। সুপার বোল একাদশে মিনেসোটা ভাইকিংসের বিপক্ষে রেইডার্সের জয়ে তিনি দুবার বল নিয়ে প্রতিপক্ষের গোললাইন পার করেন। সেই জয়েই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রথমবারের মতো ভিন্স লোম্বার্দি ট্রফি ঘরে তোলে।
তবে বানাসজাকের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় এনএফএলের ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত এক খেলার জন্য, যার নাম ‘হোলি রোলার’। ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুমের দ্বিতীয় সপ্তাহের সেই ম্যাচে চার্জার্সের বিপক্ষে রেইডার্স পিছিয়ে ছিল ২০-১৪ ব্যবধানে, বাকি ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
সেই মুহূর্তে কোয়ার্টারব্যাক কেন স্ট্যাবলার স্যাক হতে হতে বল ফসকে ফেলেন। বানাসজাক বলটি উদ্ধার করে সামনের দিকে ঠেলে দেন, যাতে টাইট এন্ড ডেভ ক্যাসপার এন্ড জোনে গিয়ে বলটি ধরতে পারেন। এরপর সফল অতিরিক্ত পয়েন্টে রেইডার্স অবিশ্বাস্যভাবে ২১-২০ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে যায়।
পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়ে বানাসজাকের অর্জন ৩ হাজার ৭৭২ রাশিং গজ, ১ হাজার ২২ রিসিভিং গজ এবং ৫২টি টাচডাউন। প্লে-অফেও তাঁর নামে রয়েছে আরও ছয়টি টাচডাউন, যা বড় মঞ্চে তাঁর নির্ভরযোগ্যতারই প্রমাণ।
রেইডার্সের ‘সিলভার অ্যান্ড ব্ল্যাক’ যুগের প্রতীকী খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বানাসজাক ভক্তদের মনে থেকে যাবেন। সংরক্ষিত ভূমিকায় থেকেও কীভাবে ইতিহাসের অংশ হওয়া যায়, তাঁর ক্যারিয়ার তা দেখিয়ে গেছে।
দলটির বিবৃতিতে তাঁকে রেইডার্স ফুটবলের কিংবদন্তি যুগের প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ৮২ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া সেই যুগের আরেকটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।





