ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মশাবাহিত এই রোগে নতুন করে মৃত্যুর এই খবরে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আবার বেড়েছে।
প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর আসছে, আর সর্বশেষ এই ছয়জনের মৃত্যু সেই ধারাবাহিকতাকেই দীর্ঘ করল। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপও বিভিন্ন জায়গায় অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়, আর বর্ষা ও তার পরের সময়টায় সাধারণত এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, গায়ে ব্যথা ও ফুসকুড়ি ডেঙ্গুর পরিচিত লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে, তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকরা বারবার বলে আসছেন, জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পথ। বিশেষ করে প্লাটিলেট কমে যাওয়া বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় মশার বংশবিস্তার ঠেকানো। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি — ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, খোলা পাত্র বা নির্মাণাধীন ভবনের জমা পানি — এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোর মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা সমান জরুরি বলে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পরীক্ষার সুযোগ রাখা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মৌসুমে রোগীর চাপ বাড়লে সেই ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে।
আরও ছয়জনের মৃত্যুর এই খবর প্রতিটি পরিবারের জন্য সতর্কবার্তা — জ্বরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, আর মশা থেকে সুরক্ষা এখন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করা দরকার।
শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাঁদের জ্বর হলে বিশেষ সতর্কতা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। আপাতত সচেতনতা, মশা নিয়ন্ত্রণ আর সময়মতো চিকিৎসাই এই রোগে মৃত্যু কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



