ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে খোলামেলা মাইকেল ডগলাস: ‘আসল কথা হলো আস্থা’
হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মাইকেল ডগলাস খোলামেলা কথা বলেছেন ছবিতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণের অভিজ্ঞতা নিয়ে। তাঁর ভাষায়, এসব দৃশ্যের পেছনে থাকে ব্যাপক আলোচনা, পারস্পরিক আস্থা আর যত্নে সাজানো প্রতিটি নড়াচড়া — বাইরে থেকে যতটা স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয়, বাস্তবে কাজটা ততটাই পরিকল্পিত।
সম্প্রতি ‘হ্যাপি, স্যাড, কনফিউজড’ অনুষ্ঠানে জশ হরোউইটজের সঙ্গে আলাপে ৮২ বছর বয়সী এই অভিনেতা ফিরে যান ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে — সেই সময়ে, যখন সেটে ‘ইনটিমেসি কোঅর্ডিনেটর’ বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের তদারকির জন্য আলাদা কর্মীর চল ছিল না।
ডগলাস বলেছেন, ‘ছবিতে যৌন দৃশ্যের একটা শিল্প আছে। কাউকে ছায়া দেওয়া, অবস্থান ঠিক করা — এসব করা সহজ নয়।’ অর্থাৎ ক্যামেরার সামনে দৃশ্যটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনেতাদের অনেক কারিগরি দিক মাথায় রাখতে হয়।
তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় কথা হলো আস্থা। ডগলাসের ভাষায়, ‘যৌন দৃশ্যের ক্ষেত্রে আসল বিষয়টা হলো আস্থা। নারী অভিনেত্রী যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন — আর অবশ্যই আমিও তাঁর ওপর আস্থা রাখি — তাহলে এটা একটা নাচের মতো; আপনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
তিনি জানান, শুটিং শুরুর আগেই প্রতিটি নড়াচড়া ধীরে ধীরে আলোচনা করে নেওয়া হতো। কোন পর্যায়ে কী হবে, কোথায় স্পর্শ করা যাবে কি যাবে না — সবকিছু আগেভাগে পরিষ্কার করে নেওয়ার পরই ক্যামেরা চলত। ডগলাসের তুলনা টেনে বলেছেন, ‘এটা ঠিক একটা মারামারির দৃশ্যের কোরিওগ্রাফির মতোই।’
‘খুব ধীরে শুরু করতে হয়… তারপর অ্যাকশন। তাতেই দৃশ্যটা দেখে মনে হয়, সত্যিই ঘটছে,’ বলেছেন তিনি। অর্থাৎ ধাপে ধাপে সাজানো সেই প্রস্তুতিই পর্দায় দৃশ্যের স্বাভাবিক ভাবটা ফুটিয়ে তোলে।
ডগলাস বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন নারী অভিনেতাদের স্বস্তির ওপর। তাঁর কথায়, বেশির ভাগ পুরুষ ক্রু সদস্যে ঘেরা সেটে নারীদের জন্য পরিস্থিতি এমনিতেই অস্বস্তিকর — বিশেষ করে সেই সময়ে — তাই তাঁরা যেন যতটা সম্ভব স্বস্তিতে থাকেন, সেটা নিশ্চিত করাটা ছিল জরুরি।
আলাপে ডগলাস অভিনয়কে দলগত কাজ হিসেবেই দেখার নিজের পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির কথাও বলেছেন। ‘আমি সব সময় মনে করেছি, আপনার চরিত্রটা পুরো ছবির একটা ছোট্ট অংশ মাত্র,’ বলেছেন তিনি। ‘তাই আপনার আসলে দরকার আশপাশে আরও ভালো অভিনেতাদের। সেরাদেরই চাইবেন, কারণ পুরো ছবিটাই আসল কথা।’
তাঁর আরেকটি মন্তব্য ছিল চরিত্র বাছাই নিয়ে — ‘বড় চরিত্রে খারাপ অভিনয়ের চেয়ে ছোট্ট একটা ছবিতে ভালো অভিনয় করাটাই আমার পছন্দ।’ অস্কারজয়ী এই অভিনেতার ক্যারিয়ার জুড়েই এই দর্শনের প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মনে করেন অনেকে।
ডগলাসের নতুন স্মৃতিকথা ‘ওয়ান হেলাভা রাইড’-এ তিনি জীবনের সামনের ও পেছনের বিস্ফোরক মুহূর্তগুলো তুলে ধরেছেন। বইটিতে আছে প্রয়াত বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা কার্ক ডগলাসের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েনের সম্পর্ক, ছেলে ক্যামেরনের মাদকাসক্তি ও কারাবাসের গল্প, আর চতুর্থ ধাপের ক্যানসারের রোগনির্ণয় — যা তাঁকে নিজের মৃত্যুচিন্তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল।
বইয়ের একটি অংশে ডগলাস লিখেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘অ্যাডাম অ্যাট সিক্স এ.এম.’ ছবির শুটিং চলাকালে তিনি ও বিবাহিত সহ-অভিনেত্রী লি পারসেল প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং শুটিং শেষ হওয়া পর্যন্ত সেই সম্পর্ক গোপন রাখতে হয়েছিল। তবে পারসেল এক বিবৃতিতে ডগলাসের এই বর্ণনার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, শুটিংয়ের সময় তাঁদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার; ব্যক্তিগত সম্পর্কটা এসেছিল অনেক পরে।
বইয়ে আরও আছে ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’ ছবির সময় চিত্রনাট্যকার ডায়ান টমাসের সঙ্গে সম্পর্কের কথা, আর প্রথম স্ত্রী ডায়ান্দ্রার সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দুজনেরই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর স্বীকারোক্তি। স্মৃতিকথা আর সাক্ষাৎকার মিলিয়ে ডগলাসের এই খোলামেলা অবস্থানই এখন হলিউডে আলোচনার বিষয়।






