‘সাইনফেল্ড’-খ্যাতিই পাঠিয়েছিল থেরাপিতে: জেসন আলেক্সান্ডারের খোলামেলা স্বীকারোক্তি
বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেই জীবন সহজ হয়ে যায় না — বরং সেই খ্যাতি সামলাতে তাঁকে থেরাপির সাহায্য নিতে হয়েছিল। জনপ্রিয় মার্কিন সিটকম ‘সাইনফেল্ড’-এর তারকা জেসন আলেক্সান্ডার এক পডকাস্টে খোলামেলাভাবেই বলেছেন, ধারাবাহিকটি চলার সময়েই তিনি থেরাপিতে ছিলেন।
ড্যানিয়েল লুবেটস্কির ‘বিল্ড অর ব্রেক’ পডকাস্টে অতিথি হয়ে আলেক্সান্ডার তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়া এই আইকনিক সিটকম নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানটি তাঁর জীবন কতটা বদলে দিয়েছিল, তা সামলানোর একমাত্র উপায় ছিল থেরাপি।
সঞ্চালক যখন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি সত্যিই থেরাপিতে গিয়েছিলেন?’ — আলেক্সান্ডারের জবাব ছিল দ্বিধাহীন: ‘অবশ্যই। ওটা চলার সময়েই আমি থেরাপিতে ছিলাম।’
কেন থেরাপি দরকার হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সাইনফেল্ড’ তাঁকে যে খ্যাতি এনে দিয়েছিল, সেই রূপান্তর যে কারও জন্যই কঠিন হতো। তাঁর ভাষায়, নিজের পেশায় সফল একজন মানুষ থেকে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে ওঠার এই ঝাঁপ সামলাতে থেরাপি লাগবেই — মানুষ যেভাবেই বড় হয়ে থাকুক না কেন।
অথচ তরুণ বয়সে আলেক্সান্ডারের স্বপ্ন ছিল একেবারেই অন্যরকম। অভিনেতা হিসেবে সফল জীবনের কল্পনা বলতে তাঁর কাছে ছিল নদী পেরিয়ে ব্রডওয়ের মঞ্চে কাজ করা। সেটাই ছিল তাঁর কাছে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখর।
তিনি বলেন, টেলিভিশন নিয়ে তিনি ভাবেননি, চলচ্চিত্র নিয়েও নয়; স্বপ্ন দেখতেন শুধু থিয়েটারের জীবনের। ২১ বছর বয়স থেকেই সেই সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে জিতে নিয়েছিলেন টনি অ্যাওয়ার্ড।
এরপরই তাঁর পথে আসে ‘প্রিটি ওম্যান’-সহ অন্যান্য চলচ্চিত্র এবং ‘সাইনফেল্ড’। আলেক্সান্ডারের ভাষায়, এরপর তিনি অভিনেতা হিসেবে এমন এক জীবন পেয়েছেন, যা তিনি কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি — এত অর্থ, পরিবারকে এভাবে রাখার সামর্থ্য, এত সুযোগ আর এত মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কল্পনার বাইরে ছিল।
‘সাইনফেল্ড’ শেষ হওয়ার পরেও তাঁর প্রথম ভাবনা ছিল না সেই সাফল্যের জায়গা আবার দখল করা। বরং তিনি বিস্মিত ছিলেন যে তিনি আদৌ সেই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছিলেন। তাঁর কথায়, জীবন তাঁকে স্বপ্নের চেয়েও বেশি দিয়েছে; সেই সাফল্য চিরকাল থাকবে, এমন প্রত্যাশাও তিনি করেননি।
তিনি আরও বলেন, শেষ দিকে ‘সাইনফেল্ড’ থেকে অর্থ উপার্জনের বিষয়ে তাঁরা কেন এতটা দৃঢ় ছিলেন, তার একটি কারণ ছিল সেই সময়ের বাস্তবতা — তখন টেলিভিশনে একটি হিট ধারাবাহিক করলে অনেক অভিনেতার আর কাজ পাওয়া হতো না; সেখানেই ক্যারিয়ার থেমে যেত।
‘সাইনফেল্ড’ তৈরি করেছিলেন কৌতুকশিল্পী জেরি সাইনফেল্ড ও ল্যারি ডেভিড। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া ধারাবাহিকটিতে নিউইয়র্ক শহরে সাইনফেল্ডের কাল্পনিক সংস্করণের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের গল্প উঠে আসে।
মূল চরিত্রগুলোতে ছিলেন জর্জ কস্তানজা চরিত্রে জেসন আলেক্সান্ডার, জেরি সাইনফেল্ড চরিত্রে জেরি সাইনফেল্ড নিজে, ইলেইন বেনেস চরিত্রে জুলিয়া লুই-ড্রেইফাস এবং কসমো ক্রেমার চরিত্রে মাইকেল রিচার্ডস।
‘কিছুই না নিয়ে তৈরি অনুষ্ঠান’ বলে প্রায়ই বর্ণিত এই সিরিজে সাধারণ পরিস্থিতিগুলোই ঘুরে ফিরে হাস্যরসাত্মক বিশৃঙ্খলায় রূপ নিত। নয়টি মৌসুমে মোট ১৮০টি পর্ব প্রচারের পর ১৯৯৮ সালে শেষ হয় ‘সাইনফেল্ড’। টেলিভিশনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সফল সিটকমগুলোর একটি হিসেবে আজও এটি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও সেই খ্যাতির ওজন নিয়ে আলেক্সান্ডারের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি দেখিয়ে দেয়, পর্দার সাফল্যের আড়ালে তারকাদের মানসিক চাপের গল্পটা কতটা বাস্তব।






