…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আইন ও অপরাধ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আইন ও অপরাধ

টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষককে চড়ের ঘটনায় দুই পক্ষের মামলা: শিক্ষক কারাগারে, বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কাছে টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির শিশুকে ‘চুমু’ দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে ওই শিশুর বাবার চড় দেওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ঘটনাটি ঘিরে এখন দুই পক্ষে দুটি মামলা হয়েছে — এক মামলায় শিক্ষক কারাগারে গেছেন, অন্য মামলায় পুলিশ এখন শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে চাইছে।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, তাঁর সন্তানকে যৌন হয়রানি করেছেন ওই শিক্ষক; পাশাপাশি এই হয়রানির কথা বাবা-মাকে বললে শিশুটিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

মাদ্রাসা শিক্ষককে সজোরে চড় মারার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বৃহস্পতিবার থেকে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ‘কিসের চুমু রে’ বলে আরেক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারছেন; এরপর আরও কয়েকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা জড়ো হলে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পরে জানা যায়, যিনি চড় মেরেছেন তিনি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা; আর যাঁকে চড় মারা হয়েছে তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও ভাইস প্রিন্সিপাল।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, চড় মারার আগে ওই শিক্ষক বলছেন, ‘স্টুডেন্টদের সাথে অন্য রকম সম্পর্ক। সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের।’ তার এক পর্যায়ে তিনি ‘চুমু’ শব্দটি বলেন — এ কথা শোনার পরই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি তাঁকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষককে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ শিশুটির বাবাকে আসামি করে পাল্টা একটি মামলা করেছেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেছেন, উভয় পক্ষে দুটি মামলা হয়েছে; মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশ আগেই আটক করেছে, পরে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আরেকটি মামলা করেছেন — সেই মামলায় এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। এজাহারনামীয় আসামি শিশুটির বাবা কি না — এই প্রশ্নে তিনি উত্তরে বলেন, ‘হ্যাঁ’।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধর করার অভিযোগ আনা হয়েছে; শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা লুট করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে শিশুটির বাবা তাঁর থানায় করা মামলায় বলেছেন, মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। এর আগে বুধবার শিশুটির পরিবারের দুই সদস্য মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।

শুক্রবার রাতে প্রেস ব্রিফিং করে শিশুটির বাবা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে তার বিচার এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কী ঘটেছিল; সবার সামনে শিক্ষক ‘জোরাজোরি’ ও ‘চুমু’র কথা বলার পর তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কোনো মব নয় — তিনি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আনা লুটপাটের অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেখানে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজ আছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেছেন, থাপ্পড় দিয়ে তিনি কোনো আলেম বা শিক্ষককে অপমান করেননি; সামাজিক মাধ্যমে ও ফোনে তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে, হত্যার হুমকিও পাচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ফেসবুক আইডি হ্যাকের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি, এবং বলেছেন পুলিশ তাঁর পক্ষেই আছে ও তিনি থানায় যোগাযোগ রাখছেন।

পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইছে — এ বিষয়ে জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা যেহেতু হয়েছে, আইন তার নিজের গতিতে চলবে; প্রতিবাদ করার জন্য যদি জেল খাটতে হয়, তিনি জেল খাটবেন। তবে জামিনের জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ঘটনাটি তাঁর মাদ্রাসার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তাঁর দাবি, শিক্ষক সবার উদ্দেশে বলেছিলেন ‘রেজাল্ট ভালো করলে পাপ্পি দিবো’ — তিনি দিয়েছেন, এমনটি বলেননি; আর ঘটনাটি ঘটেওনি বলে দাবি করেন তিনি। অধ্যক্ষ আরও বলেন, এরপরও শিশুটি ক্লাসে এসেছে; অভিযোগ সত্যি হলে অভিভাবকরা আবার সেই শিক্ষকের ক্লাসে সন্তানকে পাঠাবেন কেন — এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পড়ান বলেও জানান তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চড় মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই অভিভাবকের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন ও শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন; ‘থাপ্পড় দেওয়া’ নিয়ে মিম ও পোলও শেয়ার হচ্ছে, আর কেউ কেউ লিখেছেন, সন্তানের জন্য প্রতিটি বাবাকে এভাবেই দাঁড়াতে হবে। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের একাংশসহ আরেকটি পক্ষ শিক্ষককে মারধরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন — তাঁদের প্রশ্ন, প্রমাণ ছাড়া মাদ্রাসায় ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা কীভাবে বিচার হতে পারে; দেশে আইন ও মাদ্রাসা কমিটি তো আছেই।

ঘটনাটি ঘিরে আলোচনার মধ্যে কিছু মাদ্রাসা থেকে শিশুদের সঙ্গে শিক্ষকের আচরণ সম্পর্কে ভিডিও বার্তাও শেয়ার করা হচ্ছে। মাদরাসাতুত তাকী আল ইসলামিয়াহ তাদের ফেসবুক পাতায় বলেছে, শিশু ইতস্তত বোধ করে এমন কিছু করা যাবে না এবং কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অপকর্মের কথা চিন্তা করলেও তাঁর সেখানে থাকা উচিত নয়। মাদরাসাতুজ জয়তুনার চেয়ারম্যান মোখতার আহমদকে উদ্ধৃত করে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, কোনো শিক্ষকেরই কোনো শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়া বা ব্যাড টাচ করার সামান্যতম বৈধতা নেই এবং এমন অপরাধীরা কঠিনতম শাস্তি পেতেই হবে।

ইসলাম বিষয়ক লেখক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেছেন, সাম্প্রতিককালে প্রায়শই বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিশুদের ঘিরে নেতিবাচক খবর আসছিল, যা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছিল; এর মধ্যেই টঙ্গীর ঘটনা ঘটলো। তাঁর মতে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষগুলোকে শিশুদের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং আধুনিক শিশু ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে; অভিভাবকদেরও সচেতন হয়ে দেখতে হবে, সন্তানকে যেখানে দিচ্ছেন সেটি ঠিক আছে কি না।

পটভূমিতে রয়েছে মাদ্রাসা বোর্ডগুলোর সাম্প্রতিক নির্দেশনাও। বাংলাদেশের ছয়টি মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর করে শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিকনির্দেশনা জারি করেছে এবং প্রতিটি মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সভায় নির্দেশনাটি চূড়ান্ত হয়; এতে লাঠি, বেত বা কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত, মুখমণ্ডল-মাথা বা স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত এবং রক্তপাত বা দাগ সৃষ্টিকারী যেকোনো শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ ও মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণও পরিহার করতে বলা হয়েছে; সীমা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক শরীয়ত ও বিধি উভয় দৃষ্টিতে জবাবদিহির আওতায় থাকবেন।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগ প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয় — শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নিপীড়নের বেশ কিছু ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, আর অভিযোগ রয়েছে এমন অনেক ঘটনা দীর্ঘকাল ধরেই বিভিন্ন মাদ্রাসায় কমবেশি ঘটে আসছে। টঙ্গীর ঘটনায় এখন দুটি মামলার তদন্তই ঠিক করবে, কোন অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় — শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, নাকি বাবার বিরুদ্ধে ভাঙচুর-মারধর-লুটের পাল্টা অভিযোগ; তার আগ পর্যন্ত বিতর্ক চলবে সামাজিক মাধ্যম থেকে মাদ্রাসা অঙ্গন পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আইন ও অপরাধ বিভাগের আরও খবর

আইন ও অপরাধ

ঠাকুরগাঁওয়ে সংকেত অমান্য করে পুলিশের ওপর পিকআপ তুলে দেওয়ার অভিযোগ, চালকসহ গ্রেপ্তার ২

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের সংকেত অমান্য করে এক পুলিশ সদস্যের ওপর পিকআপ ভ্যান তুলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ …

আইন ও অপরাধ

খুলনায় আইজিপির সফরের দিনেই দুই গুলির ঘটনা: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ

খুলনায় একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন যুবদল নেতা এবং একজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তেরখাদা উপজেলায় এবং স…

আইন ও অপরাধ

জাহাঙ্গীর হত্যা: ছোট ভাই আলমগীরই পরিকল্পনাকারী, সংবাদ সম্মেলনে দাবি স্ত্রী তাসলিমার, পিবিআই তদন্তের আবেদন

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ…

আইন ও অপরাধ

সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধার অভিযোগ, গোপনে গার্ড অব অনার

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দি…