শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে দেশের মানুষ: বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, মাঝেমধ্যেই এমন হুমকি দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। ‘আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী—যাতে তার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়, এমন প্রসঙ্গেই তার এই বক্তব্য।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সত্যকেও চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, এই ঐতিহাসিক সত্য কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’
পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি সারা জীবন আপসহীন থেকেছেন।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি তুলনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন ঢাকায় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে। অথচ উল্টো চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে, যাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।
তার মতে, এই দুটি ঘটনাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর জামায়াত পারে বেহেশতের লোভ দেখাতে।’
জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি বড় বড় বুলি আওড়ালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ধর্মীয় কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন শেখ হাসিনার বিচার ও তার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তার মন্তব্যে সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।




