ঠাকুরগাঁও বাঁচাতে দাঁড়িপাল্লাকে জেতানোর আহ্বান গোলাম পরওয়ারের, ভোটে কারচুপি হলে ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওকে শূন্য করে ফেলা হবে। এ অঞ্চলকে বাঁচাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে বলে আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্রঋণ এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা ও বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, এসব সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি দলীয় লোকজনকে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির দিন ফুরিয়ে আসছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আগামী ২৯ তারিখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সাল নিয়ে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। অথচ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যরাও সে সময় অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি দলটির বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়েও কটাক্ষ করেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপি করা হলে ভোটকেন্দ্র থেকে নির্বাচন অফিস পর্যন্ত ঘেরাও করা হবে। কোনো প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অনিয়ম করলে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এ ছাড়া নির্বাচনে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রয়োজনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের পথেও যাওয়ার ইঙ্গিত দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
জনসভায় তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সুবিধা বণ্টন নিয়ে তার অভিযোগ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২৯ তারিখের ভোট সামনে রেখে এই জনসভা ও হুঁশিয়ারির পর নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা; এখন দেখার বিষয়, ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।




