‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’—ফেসবুকে এসিল্যান্ডের পোস্ট ঘিরে আলোচনা
সিলেট বিভাগে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি), অর্থাৎ এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, তার মৃত্যু হলে তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়ী থাকবেন—এমন ভাষায় লেখা পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরের সম্পর্ক ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশিত খবরে পোস্টটির মূল বক্তব্যটুকুই সামনে এসেছে। তবে ওই কর্মকর্তার নাম, তিনি সিলেট বিভাগের কোন উপজেলায় কর্মরত এবং ঠিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এমন পোস্ট দিলেন—এসব তথ্য পাওয়া খবরে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ঘটনার পুরো পটভূমি এখনো স্পষ্ট নয়।
একজন মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তা প্রকাশ্যে নিজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এভাবে দায়ী করে পোস্ট দেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকে। সাধারণত প্রশাসনের ভেতরের কোনো বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে তা বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় জানানোর নিয়ম রয়েছে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য আসায় বিষয়টি দ্রুত মানুষের নজরে এসেছে।
এসিল্যান্ডরা উপজেলা পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনা, খাসজমি, ভূমি অফিসের কাজ তদারকিসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন, আর ইউএনও উপজেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে সার্বিক কাজ সমন্বয় করেন। ফলে এই দুই পদের মধ্যে কর্মসম্পর্ক ঘনিষ্ঠ; সেই সম্পর্কের জায়গা থেকেই এমন অভিযোগ উঠলে তা স্থানীয় প্রশাসনের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পোস্টে ‘মৃত্যুর জন্য দায়ী’র মতো গুরুতর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলেই বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কেন একজন কর্মকর্তা নিজেকে এতটা অসহায় বা চাপের মধ্যে মনে করলেন যে প্রকাশ্যে এমন কথা লিখতে হলো—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তবে সতর্ক থাকা দরকার এই কারণে যে, পাওয়া তথ্য এখনো সীমিত। পোস্টের পুরো লেখা, পোস্ট দেওয়ার সময় এবং তার আগের কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত বিবরণ মেলেনি। যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেই সংশ্লিষ্টদের অপেক্ষা করা উচিত।
স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশাসন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভূমি অফিসে সেবা নিতে যাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন—কারণ ভূমিসেবা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত।
এখন দেখার বিষয়, জেলা বা বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় কি না। সাধারণত এমন ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রথমে ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে, তারপর প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত বা ব্যাখ্যা তলবের পথে যায়।
ওই কর্মকর্তা নিজে পরে পোস্টটি সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেন কি না, কিংবা পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয় কি না—সেদিকেও নজর থাকবে। ব্যাখ্যা এলে অভিযোগের পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
আপাতত নিশ্চিত তথ্য এটুকুই—সিলেট বিভাগের একজন এসিল্যান্ড ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়েছেন, যাতে তিনি তার মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করেছেন। বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে এবং তখনই ঘটনার পুরো চিত্র পাঠকের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।



