শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা, সোনা-রুপা ও ১৮ দেশের মুদ্রা
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে এবার মিলেছে ৮৮ লাখ টাকা। টাকার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে সোনা-রুপা এবং ১৮ দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনা শেষে এই হিসাব সামনে এসেছে।
মাজার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনার কাজে দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ অর্থ, অলংকার ও বিদেশি মুদ্রা আলাদা করে হিসাব করা হয়। গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
টাকার বাইরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দেওয়া সোনা ও রুপার দানও এবারের গণনায় পাওয়া গেছে। এসব দান সাধারণত মানত ও প্রার্থনার অংশ হিসেবে মাজারে আসা মানুষ দানবাক্সে দিয়ে থাকেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ১৮ দেশের মুদ্রা পাওয়া। প্রবাসী ও বিদেশি দর্শনার্থীদের সিলেটমুখী যাতায়াতের প্রতিফলন হিসেবে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দানবাক্সে জমা পড়েছে বলে ধারণা করা যায়—তবে কোন কোন দেশের মুদ্রা কত পরিমাণে পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
একই গণনায় দানবাক্স থেকে নানা ধরনের চিঠিও পাওয়া গেছে—মানুষ তাদের প্রার্থনা ও মনোবাসনার কথা লিখে দানবাক্সে জমা দিয়েছেন। এবারের গণনায় পাওয়া চিঠিগুলোর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্থতা কামনা করে ছাত্রলীগ নেতার লেখা চিঠিও ছিল, যা আলাদাভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শাহজালাল মাজার সিলেট বিভাগের সবচেয়ে পরিচিত ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি। সারা বছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এখানে আসেন, আর তাদের দেওয়া দানেই দানবাক্সে বড় অঙ্কের অর্থ জমা হয়।
নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার এই প্রক্রিয়া মাজারের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম। গণনার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে পুরো হিসাব সম্পন্ন করা হয়।
এবারের ৮৮ লাখ টাকার হিসাব সেই ধারাবাহিক গণনারই সর্বশেষ ফল। এর আগের গণনাগুলোর মতো এবারও নগদ অর্থের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতু ও বিদেশি মুদ্রার উপস্থিতি মাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি ভক্তদের টানের চিত্র তুলে ধরেছে।
গণনা শেষ হওয়া অর্থ ও দানের চূড়ান্ত হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে। সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রার মূল্যায়নসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হলে এবারের দানের সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।
আপাতত শনিবারের গণনায় পাওয়া ৮৮ লাখ টাকা, সোনা-রুপা ও ১৮ দেশের মুদ্রার খবরই সিলেটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। মাজারে আগত ভক্তদের দানের এই ধারাবাহিকতা আগামী গণনাগুলোতেও বজায় থাকবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।



