ডেঙ্গু ঠেকাতে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর রাজশাহী জেলা প্রশাসকের
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু ঠেকাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অভিযানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।
জেলা প্রশাসক বলেন, কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জমে থাকা পানিই ডেঙ্গুবাহী মশার বংশবিস্তারের প্রধান উৎস, তাই প্রতিটি বাড়ি ও কর্মস্থলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন অভিযান চালালেও প্রতিটি পরিবার নিজে সচেতন না হলে মশার বংশবিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়।
বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব কার্যক্রম শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতীয় পর্যায়ের এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ, যার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশার লার্ভা জন্মায়, ফলে বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই প্রতিরোধের মূল কথা—অনুষ্ঠানে এই বার্তাটিই বারবার তুলে ধরা হয়।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে প্রতিটি নাগরিককে নিজের বাড়ি ও কর্মপরিবেশ থেকে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান। তার মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতা একত্রিত হলেই তা সামাজিক সচেতনতায় রূপ নেয় এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমে আসে।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে জেলাজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান থাকবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।





