ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের হাত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় বিএনপির দুই কর্মী কারাগারে
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের ওয়াসিম মিয়া (২৬) ও এমদাদুল হক (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দুজনই বিএনপির কর্মী।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ছিনিয়ে নেওয়া রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনের বয়স ৩০ বছর। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির এই নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, রিয়াজুল আলমের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট ও ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা এবং ২০১৬ সালের ২ আগস্ট মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা তিনটায় সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিত দলের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলাটি উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলমও।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাঠে অভিযান চালায়। অভিযানে রিয়াজুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হলে রঙতরঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন সদস্য বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত লোকজনের ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কাশেম বলেন, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে মাদক ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আটক করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বিএনপির স্থানীয় নেতা স্বপন ও মিলন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন।
ওসি আরও বলেন, ধস্তাধস্তি হলেও পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি। তবে ওই সময় রিয়াজুলকে হাতকড়া পরানোর সুযোগ পায়নি পুলিশ। পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না; দূরে চায়ের স্টলে ছিলেন। পুলিশ ছেলেটিকে ধরার পর ধস্তাধস্তি হতে তিনি দূর থেকে দেখেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তার নাম জড়ানো হয়েছে। বরং তিনি পুলিশকে বারবার গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন বলে তার দাবি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা থানায় অবস্থান করছেন এবং বিস্তারিত পরে জানাবেন। পলাতক রিয়াজুল আলমকে আবার গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।




