প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয়ে প্রতারণা: নাটোরে আবু হুরায়রা খালেদ গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের কার্যালয়ের কর্মী পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
গ্রেপ্তার আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলামের ছেলে। গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে সিংড়া থানার বালুয়া-বাসুয়া গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবু হুরায়রা খালেদ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ও তাঁর সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতেন।
বিষয়টি একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের কাজ শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেছেন বলে পুলিশের ভাষ্যে উঠে এসেছে।
প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার এই ঘটনা আবারও ডিজিটাল প্রতারণার ভয়াবহতা সামনে এনেছে। হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি চাকরিজীবীদেরই টার্গেট করা হয়েছিল বলে পুলিশের তথ্যে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিচয়-ভিত্তিক প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় নিয়মিতই। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রলোভনমূলক আশ্বাসে অর্থ লেনদেনের আগে পরিচয় যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন মামলার তদন্তে চক্রের আরও সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ তালিকা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।




