চেক প্রজাতন্ত্রে সরকারি গণমাধ্যমের তহবিল বদলের বিল এগিয়ে গেল, সাংবাদিকদের ধর্মঘটের ঘোষণা
চেক প্রজাতন্ত্রে সরকারি গণমাধ্যমের তহবিলের কাঠামো বদলে দেওয়ার প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন জোট, যদিও সমালোচকেরা বলছেন এই বদল সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
শনিবার ভোররাতে বিরল এক রাতভর ভোটে জোট সরকার বিলটি আরও আলোচনার জন্য কমিটিগুলোতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেয়।
প্রস্তাবিত বদলের মধ্যে রয়েছে পরিবারপ্রতি ২০৫ ক্রাউনের (৯ দশমিক ৪৫ ডলার) সম্প্রচার ফি বাতিল করে তার বদলে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে তহবিল দেওয়ার ব্যবস্থা।
ধনকুবের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবিসের জনতুষ্টিবাদী সরকার, যাকে অতি-ডান দল এসপিডি সমর্থন দিচ্ছে, প্রায়ই সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে সমালোচনা করেছে এবং কোনো কোনো মাধ্যমকে পক্ষপাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
গত ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার আগে বাবিস সম্প্রচার ফি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; তিনি বলছেন, তাঁর তিনদলীয় সরকার এখন ভোটারদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করছে।
কিন্তু সরকারি গণমাধ্যমের কর্মীরা গত জুনে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ধর্মঘট করেছিলেন; তাঁদের আশঙ্কা, বাজেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সম্প্রচারকগুলো সরকারি চাপের মুখে দুর্বল হয়ে পড়বে।
বিরোধী দলগুলো এই বদলকে প্রতিবেশী হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের আমলের সংস্কারের সঙ্গে তুলনা করেছে।
বাবিস বলেছেন, নতুন তহবিল মডেল দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ন্যায্য হবে এবং মাধ্যমগুলোকে আরও দক্ষ হতে উৎসাহিত করবে।
শুক্রবার গভীর রাতে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নেই। গণতন্ত্রের জন্য কোনো লড়াই নেই এবং গণমাধ্যমের জাতীয়করণের কোনো প্রস্তুতিও চলছে না।’
প্রস্তাব অনুযায়ী চেক টেলিভিশন ও চেক রেডিওর তহবিল প্রায় ১৫ শতাংশ কমবে এবং কয়েক বছর ধরে নামমাত্র তহবিল অপরিবর্তিত থাকবে।
চেক প্রজাতন্ত্রে সরকারি গণমাধ্যম সবচেয়ে আস্থাভাজন সংবাদ উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে, আর চেক টেলিভিশন কয়েকটি বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীতে সবচেয়ে বেশি দেখা সম্প্রচারক।
একটি নাগরিক গোষ্ঠী রোববার জনপ্রতিবাদের ডাক দিয়েছে, আর সম্প্রচারকগুলোর সাংবাদিক ও অন্য কর্মীরা ৩ নভেম্বর ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিলটি এখন কমিটি পর্যায়ে আলোচনায় যাচ্ছে; সেই আলোচনা আর কর্মীদের ঘোষিত ধর্মঘটই ঠিক করবে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।




