আগুনে পুড়ে ছারখার হিটলারের ‘ঈগলস নেস্ট’: জার্মান আল্পসে রাতভর অভিযান, আটক ১
জার্মানির বাভারিয়ায় নাৎসি আমলের কুখ্যাত পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র ‘ঈগলস নেস্ট’ আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার রাতে লাগা এই আগুন নেভাতে প্রায় ২০০ অগ্নিনির্বাপণ কর্মীকে রাতভর অভিযান চালাতে হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান পুলিশ।
স্থানীয়ভাবে ‘কেলস্টাইনহাউস’ নামে পরিচিত এই ভবনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের ঘটনায় একজন ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে’ সাময়িক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে এই অগ্নিকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে এগোনোর সময়ই ভবনের ওপর দিয়ে আগুনের শিখা উঠতে দেখতে পান এবং সেখানে পৌঁছে দেখেন, পুরো ভবনটি ‘সম্পূর্ণভাবে জ্বলছে’।
আগুন নেভানোর কাজ কঠিন করে তুলেছিল ভবনটির দুর্গম অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৮০০ মিটারেরও বেশি (প্রায় ৬ হাজার ফুট) উচ্চতায় আল্পসের চূড়ায় অবস্থিত এই পাহাড়ি কেন্দ্রটিতে পৌঁছানো ও সেখানে কাজ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ—জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র লিসা মায়ার।
আগুনের কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা অগ্নিসংযোগের সন্দেহ করছেন।
জার্মান পত্রিকা বিল্ডের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা এক মোটরসাইকেল আরোহীর মুখোমুখি হন; পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে তাঁর সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন রয়েছে।
আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি সম্ভবত আর রক্ষা করা যাবে না—অর্থাৎ আগুনে এর ধ্বংস প্রায় সম্পূর্ণ।
মুখপাত্র লিসা মায়ার জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং শনিবার পরের দিকে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
১৯৩৭ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে নির্মিত পাথর ও গ্রানাইটের এই অবকাশকেন্দ্রটি দক্ষিণ জার্মানির বের্খটেসগাডেনের কাছে ওবারজালৎসবের্গের ওপরে কেলস্টাইন পাহাড়ে অবস্থিত।
অ্যাডলফ হিটলারের শাসনের স্মারক হিসেবে এবং বিদেশি কূটনীতিকদের আপ্যায়নের জায়গা হিসেবে তৈরি এই কেন্দ্র থেকে বাভারিয়ান আল্পসের বিস্তীর্ণ দৃশ্য দেখা যায়। হিটলার নিজেও এই অবকাশকেন্দ্রে গিয়েছিলেন।
নাৎসি জার্মানির ঐতিহ্যের অংশ এই স্থানটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষত ছিল। ১৯৫২ সাল থেকে এটি একটি রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সেখানে এর নাৎসি ইতিহাস নিয়ে একটি প্রদর্শনীও রয়েছে।
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে কী জানানো হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।



