প্রথম কোয়ার্টারে পিছিয়ে থেকেও বাকসকে হারাল বুলস, টাটামের ৩৬ পয়েন্টে জিতল সেল্টিকস
এনবিএর রাতে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে শিকাগো বুলস। প্রথম কোয়ার্টার শেষে ১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মিলওয়াকি বাকসকে ১৩২-১২৫ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। অ্যাওয়ে ম্যাচে এই জয় বুলসের মৌসুমের শুরুটা আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বুলসের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান নরম্যান পাওয়েলের। তিনি করেছেন ২৫ পয়েন্ট। রুকি ক্যালেব উইলসন যোগ করেছেন ২১ পয়েন্ট, যা তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লিওনার্ড মিলার করেছেন ১৯ পয়েন্ট। জ্যালেন স্মিথ ১৪ পয়েন্টের পাশাপাশি তুলে নিয়েছেন ১৩টি রিবাউন্ড। বাডি হিল্ড ১৩, আইজ্যাক ওকোরো ১২ এবং ট্রে জোন্স ১১ পয়েন্ট ও আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন বুলসের হয়ে।
মিলওয়াকির হয়ে টাইলার হেরো একাই লড়েছেন ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে। হাইমে হাকেজ জুনিয়র ১৯ পয়েন্ট ও ১১ রিবাউন্ড করেছেন। কাইল কুজমা ১৪, মাইলস টার্নার ১২ এবং রায়ান রোলিন্স, এ জে গ্রিন ও কেলেল ওয়্যার প্রত্যেকে ১১ পয়েন্ট করে করেছেন। তবু মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচেই হারল বাকস।
ম্যাচের মোড় ঘোরে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে। বাকস একসময় পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে গেলেও বাজার বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মিথের ডাঙ্কে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১০৪-১০২। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে টানা ছয় পয়েন্ট তুলে বুলস এগিয়ে যায় ১০৮-১০৪ ব্যবধানে।
হেরোর টানা দুটি থ্রি-পয়েন্টারে বাকস আবার লিড ফিরে পেলেও শেষ দিকে উইলসনের ফ্রি থ্রো বুলসকে ১২৪-১২৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি শিকাগোকে। এর আগে বুধবার টরন্টো র্যাপ্টর্সের কাছে ৪৩ পয়েন্টে হারা দলের জন্য এই প্রত্যাবর্তন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রাতের আরেক ম্যাচে আটলান্টা হকস ১২৮-৮১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে শার্লট হর্নেটসকে। ৪৭ পয়েন্টের এই ব্যবধান হকসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড; আগের রেকর্ড ছিল ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর স্যাক্রামেন্টো কিংসের বিপক্ষে ৪৬ পয়েন্টের জয়।
আটলান্টার হয়ে জ্যালেন জনসন ও বদলি অ্যারন উইগিন্স প্রত্যেকে ১৯ পয়েন্ট করেছেন। নিকেইল আলেকজান্ডার-ওয়াকার ১৪, সি জে ম্যাককলাম ১৩ এবং ডাইসন ড্যানিয়েলস ১১ পয়েন্ট, নয় রিবাউন্ড ও সাতটি স্টিল করেছেন। হর্নেটস পুরো ম্যাচে ২৭ বার বল হারিয়েছে, যা তাদের হারের বড় কারণ।
বোস্টন সেল্টিকস ঘরের মাঠে ১০৭-১০৩ ব্যবধানে হারিয়েছে নিউইয়র্ক নিক্সকে। জেসন টাটাম একাই করেছেন ৩৬ পয়েন্ট, যার নয় পয়েন্ট এসেছে চতুর্থ কোয়ার্টারের শেষ দিকে, যখন নিক্স ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল।
টাটাম নয়টি রিবাউন্ড ও সাতটি অ্যাসিস্টও করেছেন। পল জর্জ ও বদলি নিমিয়াস কুয়েতা প্রত্যেকে ১৫ পয়েন্ট এবং ডেরিক হোয়াইট ১২ পয়েন্ট করেছেন সেল্টিকসের হয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি হার নিয়ে মৌসুম শুরু করল বোস্টন, অন্যদিকে নিক্স টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখল।
একই রাতে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সও তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লিপার্সকে পেছনে ফেলে জয় তুলে নিয়েছে বলে রাতের ফলাফলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতেই বড় দলগুলোর মধ্যে জমে উঠেছে পয়েন্ট টেবিলের লড়াই।




