নাহিদ রানাকে নিয়ে প্রধান নির্বাচকের খোলামেলা কথা: দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও নেই পেসার, ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা নাহিদ রানার মাঠে ফেরা আরও পিছিয়ে গেল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে চোটে ভুগতে থাকা এই গতিতারকা চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও খেলতে পারবেন না বলে জানা গেছে। তাঁর সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
চোটের কারণে বেশ কয়েকটি সিরিজে খেলা হয়নি নাহিদের। পুনর্বাসন চলাকালে গত মাসের শেষ দিকে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মাঠে গিয়ে আবারও চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই ধাক্কার পর তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া নতুন করে সাজাতে হয়েছে।
এর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন নাহিদ। সেখানে পৌঁছে চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোকে দেখিয়েছেন তিনি। পরে সেখানেই ১০ দিনের পুনর্বাসন সেশন করেছেন এই পেসার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, নাহিদের চোট খুব একটা গুরুতর নয়। তবে মাঠে ফিরতে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। দেশে ফিরে আরও তিন থেকে চার সপ্তাহ নিজের কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোড নিয়ে কাজ করবেন টাইগার এই পেসার।
সেই হিসাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও তাঁর খেলা হচ্ছে না। অর্থাৎ পুরোপুরি ফিট হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে নাহিদকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
নাহিদের না থাকাকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তবে তিনি সেই অনুপস্থিতিকে বাকিদের জন্য সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। তাঁর ভাষায়, নাহিদ রানাকে না পাওয়া অনেক বড় সেটব্যাক; চোট নিয়ে কিছু করার নেই, তবে নাহিদ ছাড়া যারা খেলছেন, তাঁরাও ভালো করছেন।
দলের ওপর প্রত্যাশার বাড়তি চাপ দিতে চান না প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, দল ভালো খেলছে, সব ম্যাচই জরুরি; আগেই চাপ দিলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। প্রক্রিয়া যেন ঠিক থাকে, সেদিকেই তাঁদের নজর—ফল তারপর দেখা যাবে।
বাশারের মতে, বাংলাদেশের বাকি ফাস্ট বোলাররা সবাই খুব ভালো করছেন। তাসকিন আহমেদ টেস্টে ভালো করছেন, হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন চৌধুরীও ভালো বোলিং করছেন, আর শরিফুল ইসলাম আগের টেস্টে ছয় উইকেট পেয়েছেন। তাঁর মনে হয়, বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং বিভাগ যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছে।
তবে নাহিদের বিশেষত্বও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন প্রধান নির্বাচক। তাঁর কথায়, নাহিদ রানা থাকলে দলে একটি ‘এক্স ফ্যাক্টর’ থাকে। সেই বাড়তি উপাদানটি না থাকলেও চোট নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে দলে যারা আছেন, তাঁদের নিয়েই ভাবছেন তাঁরা।
গতির জন্য পরিচিত নাহিদ বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে তাসকিন, হাসান, এবাদত ও শরিফুলদের ওপরই বাড়তি দায়িত্ব পড়বে—প্রধান নির্বাচকের কথায় সেই আস্থার প্রতিফলনও স্পষ্ট।
এখন সবার চোখ নাহিদের পুনর্বাসনের অগ্রগতির দিকে। অস্ট্রেলিয়ায় ১০ দিনের সেশনের পর দেশে ফিরে তিন-চার সপ্তাহের ওয়ার্কলোডের কাজ ঠিকঠাক শেষ করতে পারলে তবেই মিলবে মাঠে ফেরার সবুজ সংকেত। তাড়াহুড়ো করে ফিরে আবার চোটে পড়ার ঝুঁকি নিতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট।
সমর্থকদের জন্যও অপেক্ষাটা লম্বা হলো। তবে চোট গুরুতর নয়—বিসিবি সূত্রের এই তথ্যই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি। পুরো ফিট নাহিদ রানাকে আবার লাল-সবুজ জার্সিতে গতির ঝড় তুলতে দেখার অপেক্ষায় থাকল ক্রিকেটপ্রেমীরা।



