গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন লিফটের অনুমোদন আটকে আছে ট্রাস্টি বোর্ডে, অভিযোগ ছাত্র সংসদের ভিপির
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন লিফট স্থাপনের অনুমোদন ট্রাস্টি বোর্ডের কারণে আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান। তিনি বলেছেন, লিফটের সমস্যা সমাধানে এক বছর চেষ্টা করেও তারা সফল হননি, তবে আগামী এক বছরও এ নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মারুফের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ভিপি এসব কথা বলেন। ভিডিওতে তিনি ছাত্র সংসদের কিছু ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন, যার মধ্যে লিফটের সমস্যা অন্যতম।
ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, নিচতলা থেকে পাঁচ তলায় উঠতে তার নিজেরও কষ্ট হয়। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারেও লিফটের বিষয়টি ছিল। এ কারণে এ নিয়ে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানান ভিপি। উপাচার্য ছাত্র সংসদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি লিফট স্থাপনের জায়গা রয়েছে এবং সেখানেই লিফট স্থাপন করতে চান তিনি।
ভিপি বলেন, “একটি লিফট স্থাপনে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০-৩৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি খুব বড় অঙ্কের টাকা নয়। তবে সমস্যাটি তৈরি করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টি বোর্ড থেকেই লিফট স্থাপনের বিষয়টি অনুমোদন করা হচ্ছে না।
ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে জাফরুল্লাহ স্যারের নীতির কথা বলা হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “জাফরুল্লাহ স্যার যখন ছিলেন, তখন শিক্ষার্থীদের লিফট ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না। তার নির্দেশনা ছিল, শুধু বয়স্ক শিক্ষকেরা লিফট ব্যবহার করবেন, শিক্ষার্থীরা নয়। তবে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় অভ্যস্ত নয়।”
তিনি আরও জানান, তারা চেষ্টা করতে পারেন এবং তাগাদা দিতে পারেন। কিন্তু লিফট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া ও তা বাস্তবায়ন করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের ওপরই নির্ভর করে। গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি অনেককে বোঝানো কঠিন। এ কারণেই লিফট নিয়ে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বহু শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাঁচ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করেন। অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অসুবিধায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য লিফটের অভাব বিশেষ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ছাত্র সংসদের ওপর শিক্ষার্থীদের চাপও বাড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, ছাত্র সংসদের এই প্রকাশ্য অভিযোগের পর ট্রাস্টি বোর্ড লিফট স্থাপনের অনুমোদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না। ভিপি জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমোদন না মিললেও আগামী এক বছর তারা এ নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।




