জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি কমানোর দাবি ছাত্রদলের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সমাবর্তনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, নির্ধারিত ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষও তত বাড়ছে।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ফি কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায়। বছরের পর বছর পরিশ্রমের স্বীকৃতির দিন এটি, পরিবার-পরিজন নিয়ে উদ্যাপনের দিন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য যে ফি নির্ধারণ করেছে, তা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এই অঙ্কটা হঠাৎ জোগাড় করা কঠিন, বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ নিজেই চালান।
ছাত্রদল নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ পরিশ্রম ও টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগান। এর পাশাপাশি সমাবর্তনের জন্য অতিরিক্ত উচ্চ ফি নির্ধারণ করা অনেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করছে। একটি গণমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী এ ধরনের ফি নির্ধারণ করা উচিত নয় বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
তাঁরা আরও বলেন, সমাবর্তন কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আনন্দের দিন। তাই সমাবর্তনের ফি এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক যোগ্য শিক্ষার্থী এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। ফির কারণে কেউ যেন নিজের অর্জনের দিনটি থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই তাঁদের মূল কথা।
বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে সমাবর্তনের ফি দ্রুত যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আহ্বান জানান। প্রশাসন দাবিটি আমলে নেবে বলেও তাঁরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭-এ অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য প্রশাসন স্নাতক (সম্মান), বিবিএ ও সমমানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। স্নাতকোত্তর ও এমবিএর ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ৬ হাজার টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ১ হাজার টাকা। আর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্তরভেদে ফির এই পার্থক্য নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ফি প্রথম সমাবর্তনের নিবন্ধন ফির প্রায় দ্বিগুণ। এক লাফে ফি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই ফি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলছেন।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের যুক্তি, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে গর্বের দিনগুলোর একটি। সেই দিনে অংশ নিতে অর্থের বাধা তৈরি হলে তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর জন্য নয়, তাঁর পরিবারের জন্যও কষ্টের। তাই ফি নির্ধারণে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এখন সবার নজর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে। ছাত্রদলের আনুষ্ঠানিক দাবির পর প্রশাসন ফি পুনর্নির্ধারণ করে কি না, কিংবা কোনো বিকল্প সুবিধা ঘোষণা করে কি না, তা-ই দেখার অপেক্ষা। সমাবর্তনের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এলে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




