ব্যাটিং নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা বাশারের
বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচনা এলেই যে প্রশ্নটি বারবার ফিরে আসে, তা হলো ব্যাটিং। এবার সেই ব্যাটিং নিয়েই নিজের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন বাশার। তাঁর মতে, দলের অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় ব্যাটিংয়েই চিন্তার জায়গাটা সবচেয়ে বেশি।
ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব বাংলাদেশের জন্য পুরোনো সমস্যা। কোনো ম্যাচে ব্যাটাররা দারুণ খেললেও পরের ম্যাচেই ভেঙে পড়ার দৃশ্য নতুন নয়। এই ওঠানামাই দলের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে ইনিংসের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। টপ অর্ডার দ্রুত উইকেট হারালে মাঝের সারির ওপর চাপ বেড়ে যায়, আর সেই চাপ সামলাতে গিয়ে রান তোলার গতিও কমে আসে। বাশারের দুশ্চিন্তার কেন্দ্রে এই জায়গাগুলোই রয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
মিডল অর্ডারের দায়িত্বও কম নয়। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট ধরে রেখে রান ঘোরানো, আবার শেষ দিকে ঝড় তোলা—দুটো ভূমিকাই পালন করতে হয় তাদের। কোনো একটিতে ঘাটতি থাকলেই পুরো ইনিংসের ছন্দ নষ্ট হয়।
ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওঠার পথে ব্যাটারদের মানসিক প্রস্তুতির প্রশ্নটিও বড়। বড় মঞ্চে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে টিকে থাকতে শুধু টেকনিক যথেষ্ট নয়, দরকার ধৈর্য ও পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা।
বাশার দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতাগুলো কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর মন্তব্য তাই অনেকের কাছেই বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে ধরা দিচ্ছে—বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে উন্নতি এলেও ব্যাটিংয়ে স্থিতি না এলে বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াই কঠিনই থেকে যাবে।
সমাধান হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাটারদের আরও বেশি ম্যাচ-পরিস্থিতি অনুশীলন, দীর্ঘ ইনিংস খেলার অভ্যাস আর ব্যর্থতার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে নির্বাচনে ধারাবাহিকতা থাকলে ব্যাটাররা নিজেদের জায়গা নিয়ে নিরাপদ বোধ করেন।
সমর্থকদের প্রত্যাশাও ব্যাটিং ঘিরেই। স্টেডিয়ামে বা পর্দার সামনে বসে তারা চান বড় ইনিংস, লড়াকু জুটি আর শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা। ব্যাটাররা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই দলের সাফল্যের হার বাড়বে।
সব মিলিয়ে বাশারের বক্তব্য ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। ব্যাটিংয়ের দুশ্চিন্তা কাটাতে পরিকল্পিত কাজ শুরু হলে তার সুফল মাঠেই দেখা যাবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




