দুর্গাপূজার বাড়তি ছাড় শেষ, আজ থেকে শপিং মল-মার্কেট আবার রাত ৮টা পর্যন্ত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার থেকে সারা দেশে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট আবার আগের সময়সূচিতে ফিরেছে। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
গত ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ বিভাগের এক নির্দেশনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়, ২৩ অক্টোবর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি বহাল থাকবে।
সে অনুযায়ী আজ থেকে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্তই খোলা রাখা যাবে। পূজা-পরবর্তী এই নির্দেশনা দেশের সব মার্কেট ও শপিং মলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গত ১২ আগস্ট দেশের সব শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। জ্বালানির দাম ও বিদ্যুৎ-ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকানপাট ও শপিং মলে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনা দিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। রাতের বেলায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা থেকে বিদ্যুৎ বাঁচানোর লক্ষ্যেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পূজার সময়সূচি বাড়ানোর কারণে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ব্যবসায়ীরা রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে পেরেছেন। উৎসবের কেনাকাটায় এই বাড়তি সময়ে বিক্রি বেড়েছিল বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি।
তবে সরকারের প্রাথমিক মূল্যায়ন হলো, উৎসবকালীন এই ছাড় শুধুই সাময়িক—পূজার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরনো সাশ্রয়ী সময়সূচিতে ফিরে যাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য জরুরি।
ব্যবসায়ীদের অনেকেই অবশ্য চান, বছরের অন্যান্য উৎসবের সময়েও এ ধরনের সাময়িক ছাড় দেওয়া হোক। তাদের যুক্তি, দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ালে বিক্রি বাড়ে, আর উৎসবের ভিড় সামলানোও সহজ হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সময়সীমা মানার বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং চলবে। যারা নির্দেশনা অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আগের নির্দেশনায় উল্লেখ ছিল।
সব মিলিয়ে আজ থেকে দেশের কেনাকাটার মানচিত্র আবার আগের মতোই—সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা। উৎসবের রঙিন বাড়তি সময় শেষ; সামনে শীতকালীন উৎসবগুলোর দিকে চোখ ব্যবসায়ীদের।






