সাজেকে দ্বিতীয় দিনের অবরোধে বিপাকে খাগড়াছড়ির পর্যটন ব্যবসা, জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় চালক-ব্যবসায়ীরা
রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটনসংশ্লিষ্টদের ওপর। শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই অবরোধে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালক, কাউন্টারকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জীবিকা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন।
সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা সড়ক অবরোধ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। অবরোধের কারণে সাজেকমুখী যান চলাচল বন্ধ থাকায় এর সরাসরি ধাক্কা এসে লেগেছে খাগড়াছড়ি-কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায়।
যারা পর্যটকদের নিয়ে সাজেকে যান এবং যারা পর্যটকনির্ভর ব্যবসা করেন, তারা জানিয়েছেন, সাজেকে অবরোধের কারণে পর্যটক না আসায় তারা বিপাকে পড়েছেন। পর্যটন মৌসুমে এমন বন্ধ তাদের আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।
পিকআপচালক মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. হৃদয় বলেন, তারা পর্যটকদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সাজেকে যান। তাদের জীবিকা এই যাত্রার ওপরই নির্ভর করে।
চালকদের আশঙ্কা, কয়েক দিন পরপর সাজেকে অবরোধ চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চালকরা। তাদের বক্তব্য, অবরোধের সিদ্ধান্ত যাদেরই হোক, এর মূল্য দিতে হচ্ছে প্রতিদিনের আয়ে চলা মানুষদের।
একই কথা বলেন সাজেক কাউন্টারের পাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, তাদের পুরো ব্যবসাই পর্যটকনির্ভর।
ইসমাইল হোসেনের ভাষায়, পর্যটক না এলে তাদের কোনো বেচাকেনা হয় না। এভাবে ঘন ঘন সাজেক বন্ধ থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে কষ্ট হবে। তিনিও দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান।
সাজেক কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সৈকত চাকমা বলেন, শুক্রবার ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কিছুসংখ্যক পর্যটক এসেছিলেন। অর্থাৎ ভ্রমণের আগ্রহ থাকলেও অবরোধের কারণে তাদের যাত্রা আটকে গেছে।
সৈকত চাকমা জানান, সাজেকে অবরোধের কারণে আগত পর্যটকদের নিয়ে কোনো গাড়ি সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ফলে কাউন্টারে এসেও ফিরে যেতে হয়েছে পর্যটকদের, আর দিনের আয় হারিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের এই দুর্ভোগ নতুন নয় বলেই তাদের কথায় উঠে এসেছে—কয়েক দিন পরপর অবরোধের পুনরাবৃত্তিই তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। এক দিনের ক্ষতির চেয়ে বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতাই ব্যবসার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
এখন সবার চোখ অবরোধের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। দ্রুত সমাধান না এলে খাগড়াছড়ির পর্যটননির্ভর চালক ও ব্যবসায়ীদের এই বিপাক আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।






