জর্ডানে গির্জায় জানাজায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৭, আহত ৩৪: ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বললেন বাদশাহ আবদুল্লাহ
জর্ডানের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় জানাজার অনুষ্ঠান চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এই হামলায় আরও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। দেশটির বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
হামলাটি ঘটেছে কারাক এলাকার একটি গির্জায়। কারাক রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১১০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এলাকাটিতে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, কারাকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে সবচেয়ে কঠোর প্রতিশোধের মাধ্যমে। তাঁর ভাষ্য, যারা মনে করে তারা গুলি দিয়ে জর্ডানবাসীকে বিভক্ত করতে পারবে, ঐক্যের সামনে তাদের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও লিখেছেন, উত্তর থেকে দক্ষিণ—সব জর্ডানবাসী ভূমি ও ভাগ্যের অংশীদার, তাদের মধ্যে কিছুই বাধা নয়। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রতিটি জর্ডানবাসীর জীবন মূল্যবান এবং যারা দেশকে হুমকি দেবে তাদের বিরুদ্ধে লোহার মুঠিতে আঘাত করা হবে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, পিস্তল হাতে দুই বন্দুকধারী গির্জার দিকে এগিয়ে গিয়ে গুলি ছুড়ছে বলে মনে হচ্ছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
এরপর আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে দেখা যায় এবং তিনিও গুলি চালান। তারপর তিনজনই গির্জার দিকে ছুটে যান।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি ‘অজ্ঞাত হামলাকারীরা’ চালিয়েছে। তবে কোনো বন্দুকধারী ধরা পড়েছে বা নিহত হয়েছে কি না, তা বিবৃতিতে বলা হয়নি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তদন্ত পূর্ণ গতিতে চলছে।
জর্ডানের জননিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মেজর জেনারেল ওবেইদাল্লাহ মায়াতাহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শুক্রবারের গুলিতে আহতদের মধ্যে ২৭ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হামলার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করে সন্ত্রাসবাদের মুখে জর্ডানের প্রতি ইরাকের সংহতি নিশ্চিত করেছেন।
কারাকে এর আগেও বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে বন্দুকধারীরা কারাকে ধারাবাহিক হামলায় পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়, যার মধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ক্রুসেডার দুর্গও ছিল। ওই হামলায় সাত কর্মকর্তাসহ ১০ জন নিহত এবং অনেকে আহত হন। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী সেসব বন্দুকধারীকে হত্যা করে।
শুক্রবারের হামলার পর তদন্ত চলছে এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো সরকারিভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।






