৫০ লাখ পাউন্ডের অনঘোষিত উপহার: মানদণ্ড কমিশনারের রায়ের অপেক্ষায় চাপে ফারাজের রিফর্ম
ব্রিটেনের রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে মানদণ্ড কমিশনারের প্রতিবেদন নেতিবাচক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলটি। ক্রিপ্টো ধনকুবের ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের উপহার ঘোষণা না করার অভিযোগে এই তদন্ত চলছে, এবং প্রতিকূল কোনো সিদ্ধান্ত এলে আপিল করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে রিফর্ম।
দলের একাধিক ভেতরের সূত্র বলছে, প্রাথমিক রায় ফারাজের বিপক্ষে যাবে বলেই তারা ধরে নিচ্ছেন এবং আপিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাল্টা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে বিষয়টি দ্রুত মিটে যাওয়ার বদলে আরও কয়েক মাস টানতে পারে।
তদন্তাধীন কোনো সংসদ সদস্যের অধিকার রয়েছে মানদণ্ড কমিটির কাছে আরও প্রমাণ পেশ করার এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে আপিল করার। আপিল প্রক্রিয়া শেষে সংসদ যদি ১০ দিনের বেশি সময়ের জন্য সংসদ থেকে স্থগিতাদেশের মতো শাস্তি অনুমোদন করে, তাহলে ফারাজকে তার ক্ল্যাক্টন আসনে আরেকটি উপনির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সেই পথে যেতে হলে একটি রিকল পিটিশন লাগবে, যেখানে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আসনটির ১০ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু দলীয় ভাবমূর্তির প্রশ্ন নয়, ফারাজের সংসদীয় আসনের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফারাজ গত মাসে মানদণ্ড কমিশনার ড্যানিয়েল গ্রিনবার্গের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। দলটি যেকোনো সময় রায়ের খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এই অপেক্ষার মধ্যেই রিফর্ম ইউকে তার সদর দপ্তরের কার্যক্রম ঢেলে সাজাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চ্যানেল ৪ ও আইটিভির গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দলটি অস্থির হয়ে পড়েছে এবং জনমত জরিপেও পিছিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
চ্যানেল ৪-এর প্রতিবেদনের পর অবৈধ বিদেশি অনুদান জোগাড়ের কথিত চেষ্টা নিয়ে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নীতিবিষয়ক প্রধান জেমস ওর এবং ফারাজের যোগাযোগ প্রধান ড্যান জুকসকে স্থগিত করা হয়েছে। তারা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে তাদের নির্দোষ বলা হলেও বিষয়টি পুলিশি তদন্তাধীন রয়েছে।
আইটিভির প্রতিবেদনে দলের কয়েকজন কাউন্সিলর ও নির্বাচনি প্রার্থীর বর্ণবাদী মন্তব্য এবং চরম সহিংসতার হুমকির চিত্র ধরা পড়েছে। দলের এক ভেতরের ব্যক্তি বলেছেন, এই তথ্যচিত্রটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর ছিল এবং দলের প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়া যে যথেষ্ট শক্ত ছিল না, তা সামনে এসেছে।
তবে দলটি সংগঠনে পরিবর্তন আনার পথে এগোচ্ছে বলেও জানা গেছে। নতুন কোষাধ্যক্ষ হার্ভে গ্রিফিথস দৈনন্দিন দলীয় কাজে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছেন, আর সাধারণ সম্পাদক টম ওয়াটারহাউস প্রার্থী যাচাইয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
অর্থের দিক থেকে দলটি বড় অঙ্কের অনুদানও পেয়েছে। হারবোর্ন ও বেন ডেলোর কাছ থেকে মোট ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই অর্থের জোরে দলটি নিয়োগের ধুম শুরু করেছে এবং লক্ষ্য আসনগুলোতে ৪০০ জন প্রচার ব্যবস্থাপক নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ভোটারদের কাছে সরাসরি চিঠি পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ফারাজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় গত মে মাসে হারবোর্নের ৫০ লাখ পাউন্ড উপহারের খবর প্রকাশের পরপরই। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ ২০২৪ সালের গত নির্বাচনের ঠিক আগে দেওয়া হয়েছিল।
ফারাজের বক্তব্য, এটি ছিল ব্যক্তিগত বিষয়, রাজনৈতিক নয়, এবং এই অর্থ ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল না। তবে নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক সহায়তা সংসদে প্রবেশের আগের ১২ মাসের মধ্যে পাওয়া হলে তা নিবন্ধন করতে হয়। কমিশনারের রায় এই ব্যাখ্যার ওপরই নির্ভর করবে, এবং সেই রায়ের দিকেই এখন ব্রিটিশ রাজনীতির নজর।






