কক্সবাজারের হোটেলে আগুন, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন প্রায় ৩০০ পর্যটক
কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে হোটেলটির নিচে পার্কিং এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় হোটেলে অবস্থান করছিলেন প্রায় ৩০০ পর্যটক—তাঁরা সবাই অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন।
আগুন লাগা হোটেলটির নাম ‘দ্য সী প্রিন্সেস’। হোটেলটির জেনারেটর কক্ষেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার ছবি দেখা গেছে, যেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে কাজ করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবে কেউ হতাহত হননি—এটাই স্বস্তির খবর।
হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মীদের দক্ষতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকেরা নিরাপদে আছেন।’
ঘটনার সময় হোটেলে প্রায় তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আগুনের খবরে আতঙ্ক ছড়ালেও সবাই নিরাপদে থাকায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১০ পর্যটক। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সুগন্ধা পয়েন্টে আবার আগুনের ঘটনা পর্যটন এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে পর্যটকের ভিড় থাকে। এ অবস্থায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, জরুরি বেরিয়ে যাওয়ার পথ ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ তদন্ত শেষে জানা যাবে। আপাতত ৩০০ পর্যটকের নিরাপদে রক্ষা পাওয়াই এই ঘটনার সবচেয়ে বড় স্বস্তি।




