তাইওয়ানে ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’র তাণ্ডব: নিহত ১, আহত ৯৪, বাতিল ৯৩১টি ফ্লাইট, বন্ধ স্কুল-অফিস
পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’র আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। শুক্রবার দ্বীপটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে, একজন নিহত ও ৯৪ জন আহত হন এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়।
তাইওয়ানের কিলুং এলাকায় বিশাল ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ে, আর রাজধানীতে জরুরি কর্মীরা রাস্তা থেকে ভাঙা ডালপালা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করেন। বৃহস্পতিবার লিউচিউ দ্বীপে ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও ৯৪ জন।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মোট ৯৩১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ সার্ভিস এবং ৬৬৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রয়েছে। তাইপের সোংশান বিমানবন্দরে প্রস্থান কাউন্টারগুলো ফাঁকা পড়ে ছিল, বাতিলের ঘোষণা দেখানো পর্দার নিচে আটকে পড়া যাত্রীরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
চাম্পি সপ্তাহের শুরুতে সর্বোচ্চ টেকসই বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছালেও তাইওয়ানের দিকে এগোনোর সময় তা কমে ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। তবু ঝড়ের শক্তি উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক তৈরি করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১,৩০০ মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং বিপজ্জনক সড়ক এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঝড়ের কেন্দ্র উপকূলের বাইরেই থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, এরপর এটি উত্তর দিকে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমের দ্বীপগুলোর দিকে এগোবে। ইশিগাকিতে একজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২,০০০ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ফিলিপাইনেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফেরি সার্ভিস ও ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে কাগায়ান প্রদেশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে চাম্পির প্রভাব তাইওয়ান ছাড়িয়ে জাপান ও ফিলিপাইন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বাতিল হওয়া ৯৩১টি ফ্লাইটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যাই বেশি — ৬৬৯টি। এতে আঞ্চলিক ভ্রমণে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, বহু যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়েন এবং বিকল্প ব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
উপকূলে আছড়ে পড়া ঢেউই ছিল এবারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিক — একমাত্র নিহত ব্যক্তিও ঢেউয়ে ভেসে গিয়েই প্রাণ হারান। সে কারণেই কর্তৃপক্ষ বারবার উপকূলীয় এলাকায় না যেতে ও সমুদ্রের কাছাকাছি ঝুঁকি না নিতে সতর্ক করেছে।
ঝড় দুর্বল হয়ে এলেও বৃষ্টি, ঢেউ ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজ এখনো চলমান। স্কুল-অফিস বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে, আর বিদ্যুৎহীন এলাকাগুলোতে পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
চাম্পি এখন উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে আঘাত, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আগামী ঘণ্টাগুলোতে ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির দিকেই নজর থাকবে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর। তাইওয়ানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব, বাতিল ফ্লাইট পুনরায় চালু এবং সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের ঘরে ফেরা — এসবই নির্ভর করছে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।






