মাগুরায় বিজয়ার রাতের পর দুই যুবকের মৃত্যু: মদপানই কারণ কি না, জানা যাবে ময়নাতদন্তে
মাগুরার শ্রীপুরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে তাঁদের মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, বিজয়া দশমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মারা যাওয়া দুজন হলেন শ্রীপুর উপজেলার মকরদমখোলা গ্রামের আজম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর (৪২) এবং শ্রীপুর ইউনিয়নের মালদা গ্রামের বিনোদ বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২৮)। একই রাতের ঘটনার পর দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্বজনরা জানান, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের সার্বজনীন দুর্গামন্দির এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করেন আলমগীর ও বিধান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আলমগীর লস্করের বাবা আজম লস্কর জানান, বিজয়া দশমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর ছেলে। ওই সময় বন্ধুরাই তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিধান বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ঘটনাপ্রবাহ ছিল কিছুটা ভিন্ন। তাঁর চাচি সুপ্রিয়া সাহা জানান, বুধবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর বিধান অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দুটি মৃত্যুই একই হাসপাতালে এবং প্রায় একই সময়ে ঘটায় এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে চিকিৎসকেরা এখনই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দিতে রাজি নন। তাঁদের ভাষায়, অনুমান নয়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই বলবে প্রকৃত কারণ।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন বলেন, “দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশের প্রাথমিক ধারণাও স্বজনদের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে, তবে তারাও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলছে না। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওলী মিয়া বলেন, “অতিরিক্ত মদপানের কারণে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”
ওসি আরও জানান, দুজনের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
উৎসবের রাতের আনন্দের সঙ্গে মদপানের এই অভিযোগ এবং পরপর দুটি মৃত্যু শ্রীপুরজুড়ে শোক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বজনেরা প্রিয়জন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন, আর এলাকার মানুষ জানতে চাইছেন ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে।
এখন সবার অপেক্ষা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে। সেই প্রতিবেদন এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে মদপানই এই দুই মৃত্যুর কারণ কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও তথ্য জানানো হতে পারে।





