ইউরোপ থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ফিরলেন ৩৫ বাংলাদেশি, বিমানবন্দরে পেলেন জরুরি সহায়তা ও কাউন্সেলিং
ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ফেরত আসা এই ৩৫ জনের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন। বিশেষ ফ্লাইটটির নম্বর পিভিজি ৯৪৪৫ বলে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। ফেরত আসা ব্যক্তিদের সহায়তার এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, এই ৩৫ বাংলাদেশিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে, যাতে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
ইউরোপ থেকে নথিপত্রহীন বা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস, সংক্ষেপে এসওপি, চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সেই চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন।
এ পর্যন্ত ফেরত আসাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে। শুক্রবারের ফ্লাইটের যাত্রীদের উৎস দেশ হিসেবে ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাসের নাম সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা সবচেয়ে বেশি লোক তারা পেয়েছেন ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে। যারা ফেরত এসেছেন, তাদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পরে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে যেন লোকজন ইউরোপে না যায়, সেজন্য সারা দেশে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে ইউরোপ বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফেরত আসা এই ব্যক্তিদের জন্য বিমানবন্দরের তাৎক্ষণিক সহায়তাই শেষ ধাপ নয়। কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণের পর অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ তৈরির চেষ্টা করা হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ও ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে পাড়ি জমান, আর তাদের একটি অংশকে এভাবেই দেশে ফিরতে হয়।
শুক্রবার সকালে ফেরা ৩৫ জনের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের পরবর্তী সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে, সেটি এখন প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। বৈধ পথে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ ও সচেতনতা কার্যক্রম কতটা ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা কমাতে পারে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের আলোচনার বিষয়।






