…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
জাতীয়

ডিম ও সবজিতে স্বস্তি ফিরলেও চাল-ডাল-তেলে চড়া বাজার: সংসারের খরচ কমছে না সাধারণ মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের আগমনী হাওয়ায় রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে নতুন সবজির সরবরাহ, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দামে। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কমছে ডিমের দামও। এতে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরে চাপে থাকা ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও চাল, ডাল, তেল ও আটার বাড়তি দাম সেই স্বস্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা কমলেও চাল, ডাল, তেল ও আটাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রয়েছে বাড়তি।

বাজারে মানভেদে এখন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, টমেটো মানভেদে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা ও কাঁচামরিচের কেজি ১৫০ টাকা। প্রতিটি জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা মানভেদে ৭০ টাকা, শীতের আগাম শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকার অনুযায়ী গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি। সরবরাহ ভালো থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম বাজারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও কমেছে এ সপ্তাহে। গত সপ্তাহে ফার্মের মুরগির লাল ডিমের ডজন ছিল ১৫০ টাকা; এ সপ্তাহে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। সাদা ফার্মের ডিমের ডজন গত সপ্তাহের ১৪০ টাকা থেকে কমে এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

তবে মাছের দাম গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও বাড়তি। মাঝারি সাইজের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায়। আকার অনুযায়ী কাতল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কালিবাউশ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, চাষের পাঙাস ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও মাঝারি আকারের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশি শিং আকারভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ও মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, বাতাসি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাজলি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, মেনি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বেলে মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চাল, আটা ও ময়দার দাম কিছুটা বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে তা আর কমেনি। একই সঙ্গে গত এক মাসে খোলা ও প্যাকেটজাত আটার দাম যথাক্রমে ২ ও ৮ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে ময়দা ও ছোলার দামও। অন্যদিকে ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।

এখন বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে, আর মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম বাড়লেও এরপর আর কমেনি।

বাজারে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। খোলা ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৬ শতাংশ; বর্তমানে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আটা-ময়দার পাশাপাশি ছোলার দামও বেড়েছে। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২৫ টাকায়, অথচ গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। অন্যান্য ডালের মধ্যে বড়দানা মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ছোটদানা মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২১০ টাকা ও দুই লিটারের বোতল ৪১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ও ডিমের দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তবে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ছোলা ও ভোজ্যতেলের বাড়তি দামে সামগ্রিক বাজার খরচ কমছে না বলে জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম কমছে; তবে পাইকারি বাজারে কেনা দাম বেশি থাকায় অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কমানো কঠিন হচ্ছে। এতে একদিকে ক্রেতাদের ব্যয় কমছে না, অন্যদিকে বিক্রিও কমে যাওয়ার কথা জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রিফাদ হাসান বলেন, বাজারে কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করেছে, ডিমের দামও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে — এতে কিছুটা স্বস্তি লাগছে। কিন্তু চাল, আটা, ময়দা, ডাল ও তেলের দাম তো কমেনি; বরং চালের দাম আগে বেড়েছে, এখনো সেই বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে। সবজি ও ডিমে কিছু টাকা সাশ্রয় হলেও অন্য পণ্য কিনতে গিয়ে সেই টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে; ফলে সব মিলিয়ে সংসারের বাজার খরচ খুব একটা কমছে না।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা গৃহিণী তানিয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিনের বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই, যেটা না কিনলেও চলে — সবজি, ডিম, চাল, ডাল, তেল সবই প্রয়োজন। এখন কিছু সবজি ও ডিমের দাম কমায় ভালো লাগছে। কিন্তু চাল, আটা, ময়দা, ছোলা ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি থাকায় মাসের খরচ মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে টাকা নিয়ে বাজারে গেলে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা যেত, এখন একই টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে। তার মতে, এভাবে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সাধারণ মানুষের প্রকৃত স্বস্তি ফিরবে না, যতক্ষণ না নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মফিদুল ইসলাম বলেন, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে; সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমছে। মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব সবজির দাম একসঙ্গে কমে না — কোন সবজি কত দামে বিক্রি হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আড়ত থেকে কেনা দাম ও বাজারে সরবরাহের ওপর; পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ও রয়েছে। ক্রেতারা কম দামে সবজি কিনতে পারলে বিক্রেতাদের বিক্রিও বাড়ে, কারণ দাম বেশি থাকলে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কেনেন।

নিউমার্কেটের মুদি দোকানের বিক্রেতা হাসান সিকদার বলেন, ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কিন্তু চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ছোলা ও তেলের মতো পণ্যের দাম এখনো বেশি — এসব পণ্য পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনতে হচ্ছে, খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। চালের দাম দুই সপ্তাহ আগে বেড়েছে, এরপর আর তেমন কমেনি; আটা ও ময়দার দামও বেশি। ক্রেতারা দোকানে এসে দাম শুনে অনেক সময় পরিমাণ কমিয়ে দেন বা কিছু পণ্য না কিনেই ফিরে যান, ফলে বিক্রিও কমে যায়। পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা পর্যায়েও ক্রেতারা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করেন তিনি।

সব মিলিয়ে শীতের সবজি ও ডিমে মিলেছে আংশিক স্বস্তি, কিন্তু চাল-আটা-ডাল-তেলের চড়া দামে সেই স্বস্তি পূর্ণ হচ্ছে না। মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী সপ্তাহগুলোতে সবজির দাম আরও কমতে পারে; তবে সংসারের মূল খরচের পণ্যগুলোর দাম না কমলে সাধারণ মানুষের বাজার-খরচের চাপ কমবে না — এটাই এখন ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষেরই কথা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি, খোঁজ নিলেন চিকিৎসার

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়…

জাতীয়

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চড়ছে চালের দাম: এক সপ্তাহে কেজিতে বাড়তি ১ থেকে ৩ টাকা

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে চালের দাম। জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি চাল কিনতে এখন ক্রেতাদের ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছ…

জাতীয়

মৃত্যু দেখে ফিরে এসেছিলেন তোতা মিয়া: বাদুরতলায় আট বছর পরও থামেনি নিখোঁজ জেলেদের জন্য অপেক্ষা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলবর্তী বাদুরতলা গ্রামে কান পাতলেই আজও শোনা যায় কান্নার শব্দ। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি, একই দৃশ্য। ক…

জাতীয়

ভদ্রাবতী নদীর পাড়ে দেড়শ বছরের সাক্ষী তাড়াশের তিন গম্বুজ মসজিদ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাঁস গ্রামে ভদ্রাবতী নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে দেড়শ বছরের বেশি পুরোনো এক মসজিদ, যা স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে এল…