সবজি ও সাইট্রাস রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে সিলেট: কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ
সিলেটে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাকে ঘিরে অঞ্চলের সবজি ও সাইট্রাস ফল রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এখন টিভির প্রতিবেদনে এই উদ্যোগের খবর এসেছে।
কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার থাকলে কৃষিপণ্য সংগ্রহের পর দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। সবজি ও ফলের মতো পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকলে ফসল তোলার পরপরই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন উৎপাদকেরা, আর পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
সাইট্রাস ফলের মধ্যে কমলা, লেবুজাতীয় ফলসহ টক ফল ধরা হয়। সিলেট অঞ্চলে এই ধরনের ফলের চাষের সঙ্গে বহু কৃষক জড়িত। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণ করা গেলে তা ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া যায় এবং দূরের বাজার কিংবা বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনাও সহজ হয়।
রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান ধরে রাখা সবচেয়ে বড় শর্তগুলোর একটি। তোলার পর থেকে ক্রেতার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পণ্য সতেজ রাখতে হিমাগারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেটের কৃষকেরা ফসল মৌসুমে একযোগে বাজারে পণ্য ছাড়ার চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে পারেন। সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে দাম পড়ে যাওয়ার সময় পণ্য ধরে রেখে পরে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়।
সবজি রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই যুক্তি কাজ করে। দেশের ভেতরের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারে সবজি পাঠাতে হলে সরবরাহের ধারাবাহিকতা দরকার, আর ধারাবাহিক সরবরাহের জন্য সংরক্ষণ অবকাঠামো অপরিহার্য।
তবে উদ্যোগটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ের খবর। কোল্ড স্টোরেজটি কোথায় নির্মিত হবে, এর ধারণক্ষমতা কত হবে, কারা এটি পরিচালনা করবে কিংবা কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে — এসব বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
সিলেট বিভাগের কৃষি অর্থনীতিতে এই ধরনের অবকাঠামো দীর্ঘদিনের চাহিদা। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত সবজি ও ফল সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পায় না বলে উৎপাদকদের অভিযোগ রয়েছে।
রপ্তানিমুখী উদ্যোগ সফল হলে এর সুফল শুধু বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না — প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে তার জন্য সংগ্রহ, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহনের পুরো ব্যবস্থাটি একসঙ্গে গড়ে তুলতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত উদ্যোগটি কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়। নির্মাণের স্থান, অর্থায়ন ও সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত এলে সিলেটের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


