তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত, ধসে গেছে তিন শতাধিক বাড়ি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পে শতাধিক বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি)।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।
উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার। উঁচু পার্বত্য এলাকায় এই কম্পনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তাই শুরু থেকেই উদ্বেগের।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ৩০০টির বেশি বাড়ি ধসে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাবে শতাধিক বাড়ি ধসের কথা বলা হলেও বিবিসির সংখ্যাটি তার চেয়ে বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ও রাতের উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ধসে পড়া বাড়ির নিচে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখাই এখন উদ্ধারকর্মীদের মূল কাজ।
এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। শক্তির বিচারে এই একটি তথ্যই কম্পনটির ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট।
নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ বলে জানা গেছে। আহত বহু মানুষের কথা বলা হলেও তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়নি।
উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। জরুরি অবস্থার মধ্যে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যের দিকেই এখন নজর থাকবে।





