বাস, ট্রেন, বিমান বা নৌযানে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি কী, জানালেন মুফতি দিদার হুসাইন
দৈনন্দিন প্রয়োজনে অনেককেই বাস, ট্রেন, লঞ্চ, জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতে হয়। সফরের সময় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে চলন্ত যানবাহনে কীভাবে নামাজ আদায় করতে হবে, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। এ বিষয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধান জানা জরুরি বলে মনে করেন আলেমরা।
এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে লেখক ও শরিয়াহ কনসালট্যান্ট মুফতি দিদার হুসাইন ভ্রমণকালে বা চলন্ত যানবাহনে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও বিধান ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায় যানবাহনভেদে নামাজের পদ্ধতিতে পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
তাঁর মতে, বিমান ও ট্রেনে সাধারণত স্থান প্রশস্ত থাকে। তাই এসব যানবাহনে নামাজের যাবতীয় শর্ত — দাঁড়ানো, কিবলামুখী হওয়া এবং পূর্ণ রুকু-সিজদা করা — পূরণ করে নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়।
অর্থাৎ বিমান বা ট্রেনে সুযোগ থাকলে দাঁড়িয়ে, কিবলার দিক ঠিক রেখে এবং পূর্ণ রুকু-সিজদাসহ স্বাভাবিক নিয়মেই নামাজ আদায় করার কথা বলা হয়েছে। প্রশস্ত জায়গা থাকায় এসব যানে শর্ত পূরণে বড় বাধা থাকে না।
চলন্ত বাসের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। মুফতি দিদার হুসাইনের মতে, চলন্ত বাসে নামাজের সব শর্ত পালন করা কিছুটা কঠিন। তাই বাসে নামাজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে করণীয় অনুসরণ করতে হয়।
বাসে আসনের সীমাবদ্ধতা, যান চলাচলের ঝাঁকুনি এবং দাঁড়ানোর জায়গার অভাবের কারণে দাঁড়ানো, কিবলামুখী হওয়া কিংবা পূর্ণ রুকু-সিজদা — সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না বলেই এই কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কোনো অবস্থাতেই নামাজ আদায়ের ফরজের শর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব না হলেও ওয়াক্ত পার করে দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, যেভাবে সম্ভব — সিটে বসে ইশারায় হলেও — নামাজ আদায় করে নেওয়া উচিত।
ইসলামের পরিভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘হুরমাতুল ওয়াক্ত’। এতে অন্তত ওয়াক্ত ছেড়ে দেওয়ার কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে এই ছাড় চূড়ান্ত নয়। মুফতি দিদার হুসাইন বলেছেন, পরে সুযোগমতো এই নামাজ কাজা আদায় করে নিতে হবে। অর্থাৎ চলন্ত যানে ইশারায় পড়া নামাজ ওয়াক্ত রক্ষার জন্য হলেও সুযোগ পেলে তা আবার কাজা হিসেবে আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই মতের পক্ষে তিনি একাধিক ফিকহ গ্রন্থের সূত্র উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আহসানুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, ইলাউস সুনান, জাওয়াহিরুল ফিকহ, মাআরিফুস সুনান ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া।
সব মিলিয়ে ভ্রমণে থাকলেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের গুরুত্বই এই ব্যাখ্যায় তুলে ধরা হয়েছে — যানে সুযোগ থাকলে পূর্ণ নিয়মে, সুযোগ না থাকলে বসে ইশারায় হলেও ওয়াক্ত রক্ষা করা এবং পরে কাজা আদায় করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






