ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু, মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও সাতজনের প্রাণহানি হয়েছে। মশাবাহিত এই রোগে নতুন করে মৃত্যুর খবর আসায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে। জ্বরে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পানি জমে থাকা জায়গায় এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় এ সময়টাতে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকে।
আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর এমন সময়ে এল, যখন প্রতি বছরই নির্দিষ্ট মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে হাসপাতাল ও পরিবারগুলোকে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়। রোগটি অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বরের মতো শুরু হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে তা দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে।
চিকিৎসকেরা বারবার বলে আসছেন, ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো দেরিতে হাসপাতালে যাওয়া। জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, গায়ে ব্যথা কিংবা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি।
বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিকে সতর্ক থাকার সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে এই পর্যায়েই রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপের দিকে যেতে পারে। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরের কোথাও রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও যাঁদের আগে থেকেই অন্য রোগ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হয়। পরিবারের কারও জ্বর হলে তাঁর দিকে বাড়তি নজর রাখা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার কিংবা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, তাই জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দিনের বেলায়ও এডিস মশা কামড়ায় বলে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার, শরীর ঢাকা পোশাক পরা এবং মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। বাসা-বাড়ির পাশাপাশি কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই সতর্কতা জরুরি।
আরও সাতজনের প্রাণহানির খবর মনে করিয়ে দিচ্ছে, ডেঙ্গুকে শুধু মৌসুমি জ্বর হিসেবে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সময়মতো পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং মশার প্রজনন ঠেকানো—এই তিনটি বিষয়ই প্রাণহানি কমানোর প্রধান উপায়।
পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান, জ্বর হলে ‘দুই দিন দেখি’ ধরনের অপেক্ষা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন। ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা—এই বার্তাই আবারও সামনে এসেছে নতুন প্রাণহানির খবরে।






