বিল থেকে ধরে পোষা গোখরার কামড়েই হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি, অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক
শখ করে বাড়িতে পোষা গোখরার কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চাঁদপুরের এক কাঠমিস্ত্রি। পরিবারের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও কয়েক মাস ধরে বিষধর সাপটিকে বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত খাবার দিতে গিয়েই ছোবল খেলেন সেই পোষা সাপের।
ঘটনাটি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের। কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। মাছ ধরার জালে আটকে থাকা একটি গোখরা সাপ উদ্ধার করে শখ করে বাড়িতে এনেছিলেন তিনি।
কয়েক মাস ধরে সাপটিকে আলাদা একটি কাঠের বাক্সে রেখে লালনপালন করছিলেন ইকবাল। খাবার হিসেবে দিতেন মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার। বিষধর সাপ বাড়িতে রাখা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বারবার নিষেধ করলেও তিনি শোনেননি।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে দুর্ঘটনা। সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুললে সেটি ইকবালের ডান হাতে ছোবল দেয়। তাঁর চিৎকারে স্বজনেরা ছুটে আসেন।
কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে অ্যান্টিভেনম দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার বলেন, ইকবালকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে; তবে তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালনপালনের শখ তাঁর স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে এনেছিলেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন রিনা; এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল।
তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করেই সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। পরিবারের সেই আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো বৃহস্পতিবারের ঘটনায়।
ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে বারবার সাপটি না পুষতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে ছোবলের শিকার হন এবং বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, বিষধর সাপ কোনো অবস্থাতেই ঘরে পোষার প্রাণী নয়। জালে আটকে থাকা সাপ উদ্ধারের মানবিক ইচ্ছা থাকলেও সেটিকে বাড়িতে রেখে দেওয়া নিজের ও পরিবারের সবার জন্যই প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিল ও জলাশয় থেকে সাপ ধরা পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এমন ক্ষেত্রে সাপটিকে নিরাপদে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়াই নিরাপদ পথ; বাড়ির বাক্সে আটকে রাখা নয়।
আপাতত সবার চোখ মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অ্যান্টিভেনম ও পর্যবেক্ষণের পর ইকবাল হোসেনের অবস্থার উন্নতি হয় কি না, সেটিই এখন স্বজনদের একমাত্র অপেক্ষা।






