ধনকুবের করের ভয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি, জাকারবার্গকে ধরে রাখতে বিশেষ চুক্তি মেটার
প্রস্তাবিত ধনকুবের করের কারণে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে রাজ্যে ধরে রাখতে তার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে মেটা। চুক্তির ফলে বড় করের বিল পরিশোধের প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রণ না হারিয়েই মেটার শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন জাকারবার্গ।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। এতে ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ৭৫ কোটি পাউন্ড) বেশি সম্পদের অধিকারী রাজ্যবাসীর ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের কথা রয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা ৩ নভেম্বর ভোট দেবেন।
ভোটের আগেই জাকারবার্গ মেটার একটি বিশেষ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তিটি নিশ্চিত করেছেন। সেই আলোচনাকে ‘জোরালো’ এবং ‘কয়েকটি পর্যায়ে বিতর্কিত’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ প্রযুক্তি জায়ান্টের ঘর ক্যালিফোর্নিয়া, এবং প্রচারণা গোষ্ঠী আমেরিকানস ফর ট্যাক্স ফেয়ারনেসের হিসাবে রাজ্যটিতে প্রায় ২২৫ জন ধনকুবের বসবাস করেন। অর্থাৎ প্রস্তাবিত করটি পাস হলে তার প্রভাব পড়বে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ অনেক ব্যক্তির ওপরই।
ফোর্বসের ধনকুবের তালিকা অনুযায়ী জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ ২২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন তিনি, এবং মেটার নেতৃত্বে তার অবস্থান কোম্পানিটির কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে।
জাকারবার্গ মেটার বোর্ডকে জানিয়েছিলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে’ তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গেই থাকতে চান। তবে তিনি এও বলেন, তিনি তার প্রধান বাসস্থান ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন, এবং বাড়িটি রিয়েল এস্টেট বাজারে তালিকাভুক্ত করলেই তা ‘প্রকাশ্য হয়ে যাবে এবং অনিবার্যভাবে কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে আলোচিত ও মন্তব্যের বিষয় হবে’।
তার ভাষায়, এমন ঘটনা ‘ভবিষ্যতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে’। অর্থাৎ তার ব্যক্তিগত সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও কোম্পানির স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে — বিশেষ কমিটির বিবেচনায় এই যুক্তিই গুরুত্ব পেয়েছে।
মেটার বিশেষ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিল্পে ‘অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার এই যুগে’ সদর দপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য জাকারবার্গকে নেতৃত্বের ভূমিকায় এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় রাখা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং এর অবকাঠামো গড়তে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করছে। সেই প্রতিযোগিতার মাঝেই মেটা বলেছে, সদর দপ্তরে কোম্পানির এআই কাজের সঙ্গে জাকারবার্গ যাতে ‘ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকেন’, তা নিশ্চিত করতেই শেয়ারসংক্রান্ত এই চুক্তি যথাযথ।
মেটা আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি, কৌশল ও স্থিতিশীলতার জন্য তার প্রতিভা ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং বিশেষ কমিটি চায় তা অব্যাহত থাকুক’।
এই ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত সম্পদ কর নিয়ে বড় বিতর্কের একটি বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছে। করটি ভোটে পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত; কিন্তু তার আগেই রাজ্যের সবচেয়ে পরিচিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠাতাদের একজন নিজের অবস্থান নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে দর-কষাকষিতে বসেছেন।
৩ নভেম্বরের ভোটের ফলই এখন নির্ধারণ করবে এই বিতর্ক কোন দিকে যায়। ভোটের আগ পর্যন্ত জাকারবার্গের এই চুক্তি মেটার জন্য নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবেই থাকছে।






