নিউইয়র্কে ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগে ডলার জেনারেলের ১৮ লাখ ডলারের বেশি সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডলার-স্টোর চেইন ডলার জেনারেল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বারবার বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় রাজি হয়েছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, কোম্পানিটি অনেক সময় ক্যাশ কাউন্টারে শেলফের লেবেল, সাইন, বিজ্ঞাপনের প্রচারপত্র ও মোবাইল অ্যাপে প্রতিশ্রুত দামের চেয়ে বেশি দাম নিয়েছে।
রাজ্যের সংস্থাটি বলেছে, বিভিন্ন দোকানে ১১৪টি পণ্য যাচাই করে দেখা গেছে, কোনো কোনো পণ্যে বাড়তি দামের হার ছিল ২৬ শতাংশ, ৩৮ শতাংশ এমনকি ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত। সরকারি পরীক্ষায় কিছু পণ্যে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম নেওয়ার তথ্য মিলেছে।
সমঝোতা অনুযায়ী ডলার জেনারেল নিউইয়র্কের আপস্টেট এলাকার একটি আঞ্চলিক ফুড ব্যাংকে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের খাদ্য ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য দান করবে।
চুক্তিতে আরও শর্ত দেওয়া হয়েছে, রাজ্যজুড়ে কোম্পানিটির ৬০০-র বেশি দোকানে দামের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, নিউইয়র্কবাসী শেলফে যে বিক্রয়মূল্য দেখেন, ক্যাশ কাউন্টারেও তাদের সেই একই দামে আস্থা রাখতে পারা উচিত।
নিজেকে সাশ্রয়ী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভরসার জায়গা হিসেবে তুলে ধরা কোম্পানিটির দাম নিয়ে সমস্যা শুধু নিউইয়র্কে সীমাবদ্ধ নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশজুড়ে এই চেইনটি ফ্লিন্টস্টোনস ভিটামিন, পিটার প্যান পিনাট বাটার ও প্রেগো পাস্তা সসের মতো পণ্যেও প্রায়ই ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ৪ হাজার ৩০০-র বেশি সরকারি দাম-যাচাই পরীক্ষায় ডলার জেনারেলের দোকানগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
নিউইয়র্কের পোর্ট হেনরির একটি ডলার জেনারেল দোকানে পরীক্ষায় দেখা গেছে, যাচাই করা পণ্যের ৭৮ শতাংশেই বেশি দাম নেওয়া হয়েছে। এই উদাহরণটি সমঝোতার পটভূমি হিসেবে উঠে এসেছে।
নিউইয়র্কের সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী কোম্পানিটিকে দীর্ঘ তালিকার নীতি ও পদ্ধতি মানতে হবে। এর মধ্যে দামের নির্ভুলতার জন্য শেলফ ট্যাগ হালনাগাদ নিশ্চিত করতে কর্মী নির্ধারণ এবং গোপন ক্রেতা পরীক্ষা চালাতে স্বাধীন নিরীক্ষক নিয়োগের বিষয়টি রয়েছে।
কোম্পানিটিকে তার রসিদের ধরনও বদলাতে হবে। রাজ্যের তদন্তকারীরা দেখেছেন, ডলার জেনারেলের রসিদে নানা বিভ্রান্তিকর ফরম্যাট ছিল, যার কারণে ক্রেতাদের পক্ষে আসলে কত দাম দিচ্ছেন তা বোঝা কঠিন ছিল।
ডলার জেনারেল নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষের findings স্বীকারও করেনি, অস্বীকারও করেনি। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, তারা ক্রেতাদের সঠিক শেলফ-দাম দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে তারা হতাশ হয়; দামের অমিল চিহ্নিত হলে দোকানের কর্মীদের ঘটনাস্থলেই তা সংশোধনের নির্দেশ, প্রত্যাশা ও ক্ষমতা দেওয়া আছে বলেও জানিয়েছে তারা।






