জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে রাজধানীর চার স্থানে বিআরটিএর রোড শো, চালক-যাত্রী-পথচারী সবাইকে সচেতনতার আহ্বান
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক রোড শো ও প্রচারাভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪—মিরপুর, ইকুরিয়া, উত্তরা ও পূর্বাচল—এর উদ্যোগে রোড শো, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পালন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল, বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়ক এবং কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় মাইকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কের কর্মসূচিতে বিআরটিএর ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমসহ সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
এ ছাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিক, রোভার স্কাউট, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
রোড শোতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, সিটবেল্ট ব্যবহার, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা এবং বৈধ লাইসেন্স ও ফিটনেস ছাড়া যানবাহন না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপারের বিষয়ে সচেতন করা হয়।
পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের দক্ষ চালক নিয়োগ ও যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই বার্তাগুলোই লিফলেট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে বারবার তুলে ধরা হয়।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এই আয়োজন রাজধানীর ব্যস্ততম কয়েকটি পয়েন্টে একসঙ্গে চালানো হয়, যাতে টার্মিনালকেন্দ্রিক চালক-শ্রমিক থেকে শুরু করে বিমানবন্দর সড়কের যাত্রী ও কুড়িল এলাকার পথচারী—সবাই সরাসরি বার্তাটি পান।
দিবসটির প্রতিপাদ্যের মতোই আয়োজকদের মূল বার্তা ছিল একটাই—সড়ক নিরাপদ করা শুধু একটি সংস্থার কাজ নয়; চালক, যাত্রী, পথচারী ও মালিক, প্রত্যেকের দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।





