২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকামুখী লাইনে ফিরল ট্রেন, দুই লাইনেই চলাচল স্বাভাবিক
কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকামুখী (আপ) লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করে; এর মধ্য দিয়ে বন্ধ থাকা আপ লাইনে চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মে দুই লাইন দিয়েই ট্রেন চলাচল করছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক আছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় দুর্ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়। তবে দুর্ঘটনাকবলিত কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেসের একটি বগি আপ লাইনে পড়ে থাকায় ওই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করা যায়নি। পরে বগিটি সরিয়ে নেওয়ার পর দুপুরে আপ লাইন দিয়ে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজ ভোর ৫টার দিকে লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে একটি বগি দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। সেটি সরাতে নাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে একটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। ইঞ্জিনটি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়; পরে বগিটি নিয়ে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ফিরে আসে। এরপর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিজয় এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করে আপ লাইন চালুর সূচনা করে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনার পর থেকে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় ডাউন লাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল চালু রাখা হয়; ফলে ট্রেন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি ও ভোগান্তি তৈরি হয়।
এর আগে সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস এবং সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ডাউন লাইন দিয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশন অতিক্রম করে। আপ লাইন মেরামত শেষ হলেও বগিটি না সরানোয় ট্রেন দুটি ওই লাইন ব্যবহার করতে পারেনি।
গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসামের আজগরা বাজারসংলগ্ন নাওটি স্টেশনের আউটার এলাকায় কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের তিনটি চাকাসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হন। আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না; তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লাইনচ্যুত ট্রেন উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে ট্রেন উদ্ধারের কাজ শেষ হয়; এরপর সকাল ৭টার দিকে রেললাইন মেরামত শেষ হয়।
ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে রেললাইন মেরামতের কাজ চললেও এ বিষয়ে রেলওয়ের কন্ট্রোল রুমকে না জানানোর অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া উপসহকারী প্রকৌশলীর নাম সারোয়ার আলম। তিনি রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের অধীন ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অধীনেই লাকসামের আজগরা বাজারসংলগ্ন নাওটি স্টেশনের আউটার এলাকায় রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল।
একই সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের ব্যস্ততম রেলপথগুলোর একটি; এই পথে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও বিপুল পণ্য চলাচল করে। একদিনের বেশি সময় একটি লাইন বন্ধ থাকায় দুই প্রান্তের যাত্রীদের শিডিউল বিপর্যয় ও দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি পোহাতে হয়। দুই লাইনেই চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় সেই ভোগান্তির অবসান হলো। এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে — মেরামতকাজ চলমান লাইনে কীভাবে ট্রেন গিয়ে লাইনচ্যুত হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে সেখানেই।






