টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় ব্যর্থতার তথ্য দল থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, সান হোসে স্টেটের সাবেক ভলিবল কোচের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসজেএসইউ) সাবেক ভলিবল কোচ মেলিসা বেটি-স্মুস অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড় ব্লেয়ার ফ্লেমিং একসময় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় যোগ্যতার সীমা পার হয়ে গিয়েছিলেন — আর সেই তথ্য দলের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে ‘গোপন’ রাখা হয়েছিল।
আউটকিককে দেওয়া নতুন এক সাক্ষাৎকারে বেটি-স্মুস, যিনি এখন সিসকো কলেজের প্রধান ভলিবল কোচ, দাবি করেছেন, ২০২৩ মৌসুমের প্রথম কনফারেন্স ম্যাচে যাত্রার আগে এসজেএসইউর সহযোগী অ্যাথলেটিকস পরিচালক লরা আলেকজান্ডার তাঁকে ফ্লেমিংয়ের ব্যর্থ পরীক্ষার কথা জানান।
বেটি-স্মুসের ভাষায়, তাঁকে বলা হয়েছিল ফ্লেমিং রক্ত পরীক্ষায় হাজির হচ্ছিলেন না, আর দল রওনা হওয়ার আগে তাঁর হাতে মাত্র এক দিন সময় ছিল পরীক্ষা দেওয়ার। পরদিন তাঁকে জানানো হয়, পরীক্ষার পর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অতিরিক্ত পাওয়া গেছে, ফ্লেমিং খেলার অযোগ্য এবং ওই সফরে তিনি যাচ্ছেন না।
কোচের দাবি, কথিত এই ব্যর্থ পরীক্ষার বিষয়টি দলের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে ‘গোপন’ রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটি বেটি-স্মুসের ১৩ অক্টোবর দায়ের করা ফেডারেল মামলাতেও রয়েছে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড ও এসজেএসইউর ১১ জন কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
এরপর ফ্লেমিং ২০২৩ মৌসুমের দীর্ঘ সময় খেলেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিকস ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের নভেম্বরের এক ম্যাচ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই খেলোয়াড় ‘চোটের কারণে’ সে বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে খেলছেন না।
বেটি-স্মুস বলেছেন, ‘যেদিন ফ্লেমিং পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন, সেদিনই চোটটি ঘটেছিল, আর সেটা ছিল খুবই সন্দেহজনক।’ তাঁর বিশ্বাস, চোটের ব্যাখ্যাটাই কথিত যোগ্যতার বিষয়টি গোপন রাখতে সাহায্য করেছিল — মামলাতেও এই সিদ্ধান্তকে তাঁর ‘বিশ্বাস’ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, টেস্টোস্টেরনের ফল প্রকাশের কাছাকাছি সময়ে ফ্লেমিং হাতের চোটের কথা বলে কনফারেন্স ম্যাচগুলো মিস করেন, যা বাদীর বিশ্বাস অনুযায়ী হরমোনের মাত্রার কারণে তাঁর অযোগ্যতা লুকানোর একটি অজুহাত ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ম্যাচ রেকর্ড শুধু ফ্লেমিংয়ের ম্যাচ মিস করার বিষয়টি নিশ্চিত করে; অনুপস্থিতিতে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার ফলের ভূমিকা ছিল কি না, তা সেসব রেকর্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
২০২৩ সালে এনসিএএর নিয়মে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নারী দলে খেলার অনুমতি ছিল, তবে হরমোন চিকিৎসা ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রার শর্ত পূরণ করতে হতো। ‘ফেজ টু’ নামে পরিচিত সেই নীতি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ জুড়ে বহাল ছিল।
ওই কাঠামো অনুযায়ী, নারী দলে খেলার আগে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অন্তত এক বছর টেস্টোস্টেরন দমনের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হতো এবং খেলাভেদে এনসিএএর নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষার ফল জমা দিতে হতো। নারী ভলিবলের ক্ষেত্রে ফেজ টু সীমা ছিল রক্তে মোট টেস্টোস্টেরন লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে। স্কুলগুলোকে প্রতিযোগিতার আগে খেলোয়াড়ের যোগ্যতা প্রত্যয়ন করতে হতো, আর কেউ অযোগ্য হলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে রাখা ছিল বাধ্যতামূলক।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেটি-স্মুসের বক্তব্যে এমনটা প্রতিষ্ঠিত হয় না যে ফ্লেমিং অযোগ্য অবস্থায় খেলেছেন। ফ্লেমিং সে মৌসুমের নভেম্বরে ফিরে আসেন; সব মিলিয়ে তিনি ১৭টি ম্যাচ মিস করেছিলেন।
সান হোসে স্টেট স্পষ্টীকরণের অনুরোধে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র আউটকিককে বলেছেন, ‘মামলা বিচারাধীন থাকায় সান হোসে স্টেট আপনার জিজ্ঞাসার জবাব দিতে পারছে না।’ আউটকিক ফ্লেমিং, এনসিএএ, মাউন্টেন ওয়েস্ট ও সিএসইউর কাছেও মন্তব্য চেয়েছিল, কিন্তু কোনো জবাব পায়নি।
বেটি-স্মুসের অভিযোগ শুধু ফ্লেমিংয়ের যোগ্যতা নিয়েই নয়; তিনি বলেছেন, প্রধান কোচ টড ক্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নষ্ট হয় এবং ক্রেস তাঁর ট্রাম্প-সমর্থনকে ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড় করান। তাঁর মামলায় ক্রেস তাঁকে ‘ট্রাম্প প্রেমী’ বলে ডাকতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই বিরোধের মধ্যেই ২০২৪ মৌসুমে সাবেক সহ-অধিনায়ক স্লুসার প্রকাশ্যে ফ্লেমিংয়ের অংশগ্রহণকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং কয়েকটি প্রতিপক্ষ দল এসজেএসইউর বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। বেটি-স্মুস ২৯ অক্টোবর টাইটেল নাইন অভিযোগ দায়ের করেন; কয়েক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বেতনসহ ছুটিতে পাঠায়। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তাঁর অস্থায়ী নিয়োগ নবায়ন করা হবে না। এ বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিচারক নোয়েল ওয়াইজ তাঁর আগের কর্মসংক্রান্ত মামলার সংশোধিত আবেদন খারিজ করে দেন। এখন নতুন ফেডারেল মামলাটিই এই বিতর্কের পরবর্তী আইনি অধ্যায়।





