সুন্দরবন দেখে নৌপথে মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ঘুরে দেখবেন জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল
হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দিগরাজ ঘাঁটির পন্টুনে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী নৌযান এসে পৌঁছায়।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী, মধ্যাহ্নবিরতির পর ঘাঁটির ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওই সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এরপর বেলা ৩টায় তিনি মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন। বেলা সোয়া ৩টায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়ে সাড়ে ৩টায় এলাকাটি পরিদর্শনের কথা রয়েছে। দিনের কর্মসূচি শেষে বিকেলেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। সকাল ৯টায় বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্টসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ বন পর্যবেক্ষণ শেষে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি এবং সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন।
নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্গম উপকূলীয় জনপদ দাকোপের নলিয়ানে আজ সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কারও চোখে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার আগ্রহ, কারও মনে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচানোর প্রত্যাশা।
নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত এই জনপদের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে দেখছেন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অবতরণের স্থানটিতে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়।
সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্বদিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর সভা ও পরিদর্শন শেষে কোনো নির্দেশনা বা ঘোষণা আসে কিনা, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের।






