…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

দাম্মাম বিমানবন্দর ও আরামকো তেলক্ষেত্রে পৃথক হামলায় নিহত তিনজন, আহত আরও দশজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর ও আরামকো তেল শোধনাগারের শায়বাহ (শেবা) তেলক্ষেত্রে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আরও দশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের বেসামরিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনা — দুই কৌশলগত লক্ষ্যেই একই দিনে আঘাত হানায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় এক বিদেশি নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় কেউ কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছে এবং চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

তবে দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন বা এর উৎস সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এই হামলার জন্য এখনো সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী করেননি। ফলে হামলার উৎস নিয়ে আনুষ্ঠানিক ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

আরেকটি হামলার ব্যাপারে অপর এক বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের আরামকো তেল শোধনাগারের শেবা তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে মাঝপথে ধ্বংস করে, তবে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ আরামকোর স্থাপনার ওপর এসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা ফিলিপাইন ও নেপালের নাগরিক ছিলেন এবং আহতদের মধ্যে পাকিস্তানি ও ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তেলক্ষেত্রের বাইরে কর্মরত একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এর ফলে তেল উৎপাদন বা অন্যান্য কার্যক্রমের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাঘাত ঘটেনি।

একই সঙ্গে গত কয়েক ঘণ্টায় মদিনা ও পূর্বাঞ্চলের দিকে নিক্ষেপ করা পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, সৌদি আরবের দিকে নিক্ষেপ করা চারটি ড্রোন মাঝপথেই প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরেকটি বার্তায় তিনি জানান, ড্রোনগুলোকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও মদিনা এলাকায় প্রতিহত করা হয়েছে এবং পরে পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।

তবে হামলার এই দাবি অস্বীকার করেছে হুতিরা। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বুধবার তাঁদের দল সৌদি আরবের মদিনা শহরের দিকে কোনো ড্রোন পাঠায়নি এবং দেশটির বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপও নেয়নি। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছিল। সৌদি সামরিক জোটের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মদিনা এলাকাটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রেক্ষাপটে রয়েছে সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রাণহানি ও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেছিল। ফলে বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতে এই নতুন আঘাত রিয়াদের সামগ্রিক আকাশপথ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব থেকে মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার এই নির্দেশের কথা জানায়। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমেই বেশি শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে; এর মধ্যে দেশটির বেসামরিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলাও রয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইন থেকেও মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার মুখে সৌদি আরবের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি জানাতে এক আকস্মিক সফরে দেশটির রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই সফরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। হুতিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর ম্যাক্রোঁই প্রথম কোনো পশ্চিমা নেতা, যিনি সৌদি আরব সফর করলেন।

ম্যাক্রোঁর পৌঁছানোর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো এবং হাইড্রোকার্বন (জ্বালানি) সংস্থান নিরাপদ রাখা ও এর উৎস বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি শুধু তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, সৌদির প্রধান তেল টার্মিনাল বন্দর ইয়ানবুতে ফরাসি সামরিক সদস্য ও সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে আবার হামলা চালানো হয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা জানিয়েছে, ওমানের কাছে হরমুজ প্রণালির মুখোমুখি এলাকায় একটি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় ট্যাংকারে আগুন লেগে গিয়েছিল, পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে; ট্যাংকারটি বর্তমানে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে এবং জাহাজের সব ক্রু বা নাবিক নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছেন।

একই সময়ে আরেকটি দাবি সামনে এসেছে। হুতি গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ দাবি করেছে, ইয়েমেনের দক্ষিণ হাথরামাউত প্রদেশের রাজধানী মুকাল্লার আল-রাইয়ান বিমানবন্দরে সামরিক কার্গো বিমানের মাধ্যমে পাঠানো সৌদি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের একটি গোষ্ঠী রিয়াদকে সতর্ক করেছে, ‘সামরিক উদ্দেশ্যে কোনো বেসামরিক স্থাপনা যাতে ব্যবহার না করা হয়’।

সব মিলিয়ে দাম্মাম ও শায়বাহর হামলা, ড্রোন প্রতিহতের পাল্টাপাল্টি দাবি, মার্কিন দূতাবাসকর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ আর হরমুজের ট্যাংকার হামলা — একই দিনের এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। হামলার দায় নিয়ে সৌদি জোট ও হুতিদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে আরও সময় লাগতে পারে। আপাতত আহতদের চিকিৎসা, বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রের নিরাপত্তা জোরদার এবং কূটনৈতিক তৎপরতাই পরবর্তী ধাপ হিসেবে সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

পিএইচপি ত্রুটিতে বিশ্বজুড়ে সাইবার তৎপরতা: সরকার ও বড় কোম্পানিগুলো ঝুঁকি খুঁজছে

বিশ্বের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটের ভিত্তি হিসেবে কাজ করা পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার বলেছ…

আন্তর্জাতিক

‘মাদার অব অল বম্বস’-এর পাল্টায় ‘ফাদার অব অল বম্বস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বেড়েছে দেড় গুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বম্বস’-এর পাল্টা হিসেবে ‘ফাদার অব অল বম্বস’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলাম…

আন্তর্জাতিক

হুথি হামলার মধ্যেই ৩৭৯ যাত্রী নিয়ে দাম্মাম গেল বিমানের ফ্লাইট: বাতিল ১৩৪ ফ্লাইট, আটকা পড়েছিলেন ২০ হাজারের বেশি যাত্রী

সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ৩৭৯ জন যাত্রী নিয়ে দাম্মামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বৃ…