অ্যালিয়াঞ্জে শেষ দিকে গোলে বাঁচল আর্সেনাল, বার্নাব্যুতে লাইপজিগকে উড়িয়ে টানা তৃতীয় জয় রিয়ালের
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে বুধবার দিবাগত রাতে দুটি বড় ম্যাচে দুই রকম গল্প তৈরি হয়েছে। মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় স্বাগতিক বায়ার্নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে আর্সেনাল, আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
বায়ার্নের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় আর্সেনাল। খেলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বুকায়ো সাকাকে। তবে তার বদলি হিসেবে নামা এবেরেচি এজে হতাশ করেননি সমর্থকদের।
২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো পাস থেকে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন এজে। জার্মান জায়ান্টদের মাঠে সেই লিড অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি।
৩৫ মিনিটে সমতায় ফেরে বায়ার্ন। হ্যারি কেইনের বাড়ানো বল ধরে বক্সের ভেতরে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন কানাডার ফুটবলার আলফোনসো ডেভিস। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ, আর বিরতির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা।
৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন নিজেই। আর্সেনালের জুরিয়েন টিম্বারের হাতে বল লাগায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ইংলিশ এই স্ট্রাইকার।
পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ননি মাদুয়েকে ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের যৌথ আক্রমণ থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান ডেকলান রাইস, ২-২ সমতায় ফেরে ম্যাচ। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
অন্যদিকে বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে। ম্যাচের প্রথম দিকে লাইপজিগের কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। সেই চাপ সামলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
৪৩ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভার্দের শট ফিরিয়ে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক, কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান বের্নার্দো সিলভা। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। জুড বেলিংহ্যামের ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের হেড জালে যাওয়ার আগেই বল লক্ষ্যে পাঠান আরদা গুলের। এরপর ৮৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে রিয়ালের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন এমবাপ্পে নিজেই।
এক মিনিট পর তিদিয়াম গোমিসের গোলে ব্যবধান কমায় লাইপজিগ। কিন্তু ৮৭ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইয়ান দিয়োমান্দের অসাধারণ ভলিতে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় রিয়াল, আর ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
দিনের অন্য ম্যাচগুলোতে সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছে ইতালির কোমো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা, যেখানে নিকো পাজ করেছেন জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। গালাতাসারে ৪-২ গোলে হারিয়েছে লিলকে, অ্যাস্টন ভিলা ৩-১ গোলে ভাইকিংকে এবং ক্লাব ব্রুজ ৩-০ গোলে লঁসকে হারিয়েছে।
ইন্টার মিলান ১-০ গোলে হারিয়েছে শাখতার দোনেৎস্ককে। রিয়াল বেতিস একই ব্যবধানে ফেইনুর্ডকে এবং লাস্ক ৩-২ গোলে স্পোর্টিং সিপিকে হারিয়ে দিন শেষ করেছে। সব মিলিয়ে গোল আর নাটকীয়তায় ভরপুর আরেকটি ইউরোপীয় রাত উপহার পেলেন ফুটবলপ্রেমীরা।




