মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ পর্যটক নিহত, আহত ৩৪
মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে একটি বড় ট্রাকের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতরা সবাই দেশি-বিদেশি পর্যটক।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কায়রো-আসিয়ুত পশ্চিম মরুভূমি মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মধ্যে এই মর্মান্তিক সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ মহাসড়ক থেকে বাস ও ট্রাকের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছে। একটি ক্রেনের সাহায্যে বড় বাসটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের তীব্রতা বোঝা যায় ধ্বংসাবশেষের বর্ণনায়। বাসটির সামনের পুরো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ইস্পাত ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিল।
এএফপির সংবাদদাতা আরও জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে যাত্রীদের আসনগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং ট্রাকটির পেছনের অংশে বাসের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছিল — যা সংঘর্ষটি কতটা ভয়াবহ ছিল, তারই প্রমাণ।
আল-আহরামের প্রতিবেদন অনুসারে, আহতদের গিজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ৩৪ জনের চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা বিরল নয়। প্রায়ই বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যানবাহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ — যা দেশটির সড়ক নিরাপত্তা সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে সিনাই অঞ্চলে একটি বাস দুর্ঘটনায় ১০ জন জর্ডানি পর্যটকসহ মোট ২২ জন নিহত হন।
তার আগের মাস আগস্টে উত্তর মিসরে কৃষিশ্রমিক বহনকারী দুটি পিকআপ ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল।
একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় মিসরের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এবারের তদন্তের ফলাফল ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর সবার।





