পাওয়ার প্লেতেই তাসকিনের জোড়া আঘাত, ১১৯ রানে আফগানদের আটকানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বল্প পুঁজি নিয়েও লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে মাত্র ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখার কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে বল হাতে শুরুতেই জোড়া সাফল্য এনে দিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিনি আফগান শিবিরে চাপ তৈরি করেছেন।
সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আফগান বোলারদের তোপে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা।
সেই চাপের মুখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। ইমন করেন ৭০ রান, সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান। তাঁদের দুজনের ইনিংসে ভর করেই কোনোমতে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬০ রান। আফগানিস্তানের হয়ে একাই ৪ উইকেট শিকার করেন লেগস্পিনার রশিদ খান। আজমাতুল্লাহ ওমরজাই ও আহমাদজাই নেন দুটি করে উইকেট।
আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য ১৬১ রান। তবে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ আরও কঠিন। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার হিসাব মেলাতে হলে এই ম্যাচে শুধু জিতলেই চলবে না, আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হবে টাইগারদের।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দুই প্রান্ত থেকে নতুন বল হাতে আক্রমণ শুরু করেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। শুরু থেকেই আফগান ওপেনারদের চাপে রাখেন দুই পেসার।
নিজের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন। বিপজ্জনক ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে সাজঘরে ফেরান তিনি। গুরবাজ ৮ বলে মাত্র ৬ রান করে আউট হন।
গুরবাজের বিদায়ের পর ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান সেদিকুল্লাহ আতাল। কিন্তু আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান তাসকিন। আতালকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান এই পেসার।
৭ ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটের বিনিময়ে ৪০ রান। ক্রিজে তখন লড়ছিলেন ইব্রাহিম জাদরান।
ম্যাচের বাকি অংশে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের রানের গতি আটকে রাখতে হবে, সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে ১১৯ রানের সীমার দিকেও।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের লক্ষ্য দ্বিমুখী। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তাড়া করার পাশাপাশি অন্তত ১২০ রান করতে পারলেই ফাইনালের সমীকরণে তারা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।
ফলে শারজাহর এই ম্যাচ এখন শুধু একটি জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, ফাইনালে ওঠার টিকিটের লড়াইও। তাসকিনের শুরুর ধাক্কা বাংলাদেশকে সেই লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছে, এখন দেখার বিষয় বাকি বোলাররা সেই চাপ ধরে রাখতে পারেন কি না।



