অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টিতে ডিবির অভিযান, আটক ৮৫ জনের সাজা
পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির নামে চলা আয়োজনে অভিযান চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি করে এমন আয়োজন হতো এবং ২০২৫ সাল থেকে এই কার্যক্রম চলছিল।
বাড়িটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা এসব পার্টিতে যোগ দিতেন। এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আয়োজনগুলো করা হতো বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর তারা ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল, ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল এবং শিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।
অভিযানের সময় পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান বলে তিনি জানান। পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, পার্টিতে ২৬ জন তরুণী ছিলেন, তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।
অভিযানে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা এবং কুশ নামের একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিবি জানিয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিটি আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে। মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজনের হিসাব ধরলে এটি ছিল নিয়মিত ও সংগঠিত একটি কার্যক্রম, এমনটাই অভিযান-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে।
সাজা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কবির বলেন, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগ করতে হবে। মেয়েদের দেওয়া হয়েছে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা; জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়ি এমন আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি অভিযানের পর আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে বাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্যে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আড়ালে এমন আয়োজন চলতে থাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের পার্টির নামে মাদক সেবন ও অনিয়মের অভিযোগ পেলে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই আয়োজনের পেছনে আর কারা যুক্ত ছিলেন এবং অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে আর কোথাও এমন কার্যক্রম চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।



